মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে গ্রেপ্তার হলেন ১৯ জন ভারতীয়। জানা গিয়েছে, মোট ৩৫ জন ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করেছে আমিরশাহী প্রশাসন। দ্রুতই তাঁদের বিচার শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের অপরাধ, ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যুদ্ধের আবহে সোশাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট করছেন। ভুয়ো তথ্য ছড়াচ্ছেন নেটদুনিয়ায়।
আমিরশাহীর অ্যাটর্নি জেনারেল ডঃ হামাদ সইফ আল শামস জানিয়েছেন, সোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো এবং মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। গত কয়েকদিন ধরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিতে নজরদারি চালানো হয়েছে। তদন্ত করে দেখা গিয়েছে, এআই দিয়ে নানা কন্টেন্ট তৈরি করে আমজনতাকে উত্তেজিত করার চেষ্টা চলছে সোশাল মিডিয়ায়। তার ফলে স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। এই গোটা অপরাধকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করে বিচার শুরু করতে চলেছে আমিরশাহী প্রশাসন। সেটার প্রথম ধাপে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৯ ভারতীয়-সহ মোট ৩৫ জনকে।
যুদ্ধের মধ্যে আমিরশাহীর উপরে একাধিকবার আছড়ে পড়েছে ইরানের আক্রমণ। তার জেরে দেশবাসী এবং প্রশাসনের মধ্যে আশঙ্কা বাড়ছে। সোশাল মিডিয়ার ভুয়ো প্রচারে সমস্যা বাড়ছে বলেই মত আমিরশাহী প্রশাসনের।
অভিযোগ, ওই ৩৫ জনের মধ্যে ১০ জন ভুয়ো তথ্য ছড়াননি। কিন্তু তাঁদের তৈরি কন্টেন্টের মাধ্যমে আমজনতা উত্তেজিত হতে পারেন। ওই ১০ জনের মধ্যে ৫জনই ভারতীয়। এছাড়াও ৭ জন ধৃতের বিরুদ্ধে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো কন্টেন্ট সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করার অভিযোগ উঠেছে। অন্যত্র ঘটে যাওয়া ঘটনাকে আমিরশাহীর ঘটনা বলে প্রচার করেছেন তাঁরা। এই দলে রয়েছেন পাঁচ ভারতীয়। এছাড়াও সাত ভারতীয়র বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা বিশেষ এক দেশের (ইরান) সামরিক আগ্রাসন এবং তাদের নেতৃত্বকে সমর্থন করে সোশাল মিডিয়ায় গলা ফাটাচ্ছেন। পাকিস্তান, নেপাল, মিশরের নাগরিকরাও রয়েছেন ধৃতদের তালিকায়।
প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ১৯ জন ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামী দিনে আরও বিশদ তদন্ত শুরু হবে তাঁদের বিরুদ্ধে। দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বনিম্ন ১ বছরের কারাদণ্ড ভুগতে হবে তাঁদের। আমিরশাহীর মুদ্রায় এক লক্ষ ডলার জরিমানাও গুণতে হবে। যুদ্ধের মধ্যে আমিরশাহীর উপরে একাধিকবার আছড়ে পড়েছে ইরানের আক্রমণ। তার জেরে দেশবাসী এবং প্রশাসনের মধ্যে আশঙ্কা বাড়ছে। সোশাল মিডিয়ার ভুয়ো প্রচারে সমস্যা বাড়ছে বলেই মত আমিরশাহী প্রশাসনের। সেকারণেই ব্যাপক নজরদারি চলছে দেশটির সোশাল মিডিয়ায়।
