দীর্ঘদিন ধরে চর্চায় থাকা মার্কিন ইউএফও (UFO) ফাইলের প্রথম কিস্তি প্রকাশ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রথম ধাপে প্রকাশ করা হয়েছে একাধিক ভিডিও, ছবি ও পুরনো সরকারি রেকর্ড। সেখান থেকেই উঠে এল চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। এফবিআই (FBI)-এর প্রকাশিত গোপন নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৬০-এর দশকে কিছু মানুষ ছোট কাঁধ বিশিষ্ট রহস্যময় কিছু প্রাণীকে ইউএফও থেকে বেরিয়ে আসতে দেখেছিলেন। যাদের মাথায় ছিল হেলমেট ও পরনে স্পেস স্যুট।
ট্রাম্পের নির্দেশে প্রকাশিত নথি।
এফবিআইয়ের নথিতে বলা হয়েছে, 'কিছু মানুষ দাবি করেছেন তাঁরা অদ্ভুত যান থেকে রহস্যময় প্রাণীদের বাইরে বেরতে দেখেছিলেন। এদের উচ্চতা ছিল সাড়ে তিন থেকে চার ফুট। পরনে ছিল অদ্ভুত পোশাক। যাকে কিছুটা স্পেস স্যুটের সঙ্গে তুলনা করা যায়। মাথা ঢাকা ছিল হেলমেটে।' ওই রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, ১৯৬৫ সালে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ইউএফও-র দেখা মিলেছিল। শুধু তাই নয়, এই ফাইলের সবচেয়ে বেশি চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে নাসার অ্যাপেলো মিশনের ছবি ও মহাকাশ যাত্রীদের কথোপকথন। অ্যাপেলো ১২ ও অ্যাপেলো ১৭ অভিযানের চাঁদের মাটিতে আকাশ থেকে দেখা যায় রহস্যময় ৩ বিন্দু। অ্যাপেলো ১৭ চলাকালীন নাসার মহাকাশযানের পাশে কোনও বিশেষ উজ্জ্বল বস্তু দেখতে পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছিলেন মহাকাশচারীরা।
এফবিআইয়ের নথিতে বলা হয়েছে, 'কিছু মানুষ দাবি করেছেন তাঁরা অদ্ভুত যান থেকে রহস্যময় প্রাণীদের বাইরে বেরতে দেখেছিলেন। এদের উচ্চতা ছিল সাড়ে তিন থেকে চার ফুট। পরনে ছিল অদ্ভুত পোশাক।'
একজন অপারেটর মিশন কন্ট্রোলারকে জানান, কিছু উজ্জ্বল কণা অথবা কোনও বস্তু পাশ থেকে উড়ে যাওয়ার দাবি করা হয়। অন্য এক অপারেটর জবাবে বলেন, 'আমার জানালার ঠিক পাশে একাধিক উজ্জ্বল বস্তু দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন আতশবাজির খেলা চলছে।' পেন্টাগনের তরফে পেশ করা এই রিপোর্টেও অদ্ভুত রহস্যময় বস্তুকে আকাশে উড়তে দেখার দাবি করা হয়েছে। ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের কিছু ছবি এফবিআই প্রকাশ করেছে যেখানে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বিমানের কাছে রহস্যময় কিছু উড়তে দেখা যায়। এমনকী বিমানের পাইলটের নেওয়া ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।
অ্যাপেলো ১২ থেকে নেওয়া ছবি। যেখানে চাঁদের পৃষ্টে দেখা যায় রহস্যময় বস্তু।
মাঝ আকাশে এমনই এক ইউএফও-কে যুদ্ধবিমানের টার্গেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে ২০ সেকেন্ড ট্র্যাক করা হয়। আশ্চর্যরকম দ্রুত ছিল তার গতিবিধি। ২০ সেকেন্ড পর হঠাৎ সেটি গায়েব হয়ে যায়। ২০২৪ সালে ওমানের আকাশেও রহস্যময় বস্তু উড়তে দেখা গিয়েছিল। আমেরিকার দাবি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। আগামী দিনে যে সব তথ্য সামনে আসতে চলেছে তা গোটা বিশ্বে শোরগোল ফেলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে পেন্টাগনের দাবি, বিশ্বের নানা প্রান্তে ইউএফও দেখার দাবি উঠলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে সেগুলি প্রাকৃতিক কোনও ঘটনা বা সামরিক কার্যকলাপের জেরে তৈরি হওয়া আলোর বিন্দু বা বস্তু। তবে যে ঘটনার যুক্তিসম্মত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, সেগুলিই সামনে আনা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ভিনগ্রহীদের অস্তিত্ব সংক্রান্ত তথ্য গোপন করে রাখা হয়েছে বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে আমেরিকার বিরুদ্ধে। সেই জল্পনার মাঝেই গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছিলেন, “আমি কখনও কোনও ভিনগ্রহী দেখিনি। তবে বিশ্বাস করি ওরা আছে।” পাশাপাশি বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা আমেরিকার এরিয়া-৫১ অঞ্চল প্রসঙ্গে বলেন, “এরিয়া-৫১ কোনও ভিনগ্রহীকে লুকিয়ে রাখা হয়নি। এবং এখানে কোনও গোপন সামরিক ঘাঁটিও নেই বলেই জানি। তবে হ্যাঁ এটা সত্যি হতে পারে তখনই, যদি কেউ বা কারা বিরাট কোনও গোপন ষড়যন্ত্র করে থাকে এবং সেই ষড়যন্ত্র খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকেও লুকিয়ে রাখা হয় তবেই।”
ওবামার এহেন দাবি গোটা বিশ্বে শোরগোল ফেলে দেয়। এই ইস্যুতে ওবামাকে একহাত নিয়ে ট্রাম্প (Donald Trump ) বলেছিলেনন, “গোপন তথ্য ফাঁস করে উনি মস্ত বড় ভুল করলেন। ওঁর থেকে এমনটা কাম্য ছিল না। আমি জানি না ওরা (ভিনগ্রহী) সত্যিই আছে কি নেই। তবে এটা বলতে পারি গোপন তথ্য ফাঁস করা হয়েছে। অনেকে এগুলো বিশ্বাস করে ঠিকই, তবে আমি এই নিয়ে কোনও কথা বলি না।” এর পরই ভিনগ্রহী ও ভিনগ্রহীদের যান (ইউএফও) সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশ করার নির্দেশ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতে ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হচ্ছে ইউএফও সংক্রান্ত তথ্য।
