র্যাডারেও ধরা পড়ে না। এর নাম শুনে কাঁপত তালিবানও। ইরানের শিরচ্ছেদ করতে সেই মার্কিন (US) বোমারু যুদ্ধবিমান বি-৫২-কে তেহরানে পাঠাল আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ (War) শুরুর পর এই প্রথম ইরানের (Iran) উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বি-৫২ বোমারু যুদ্ধবিমান।
মঙ্গলবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন বিমান বাহিনীর জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, “গত ৩০ দিনে আমরা ১১ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছি। আকাশপথে অভিযান চালাতে আমরা শ্রেষ্ঠ। ইতিমধ্যেই আমরা বোমারু যুদ্ধবিমান বি-৫২ ইরানে পাঠিয়েছি। শত্রুর উপর আরও বেশি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাই।” ইরানের সামরিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামো ধ্বংস করতেই এই বোমারু বিমান পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামী দিনে ইরানে এই 'উড়ন্ত দানব' কতটা ধ্বংসলীলা চালায়, সেটাই দেখার।
এদিকে একমাস পেরিয়ে গিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান আর দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই বন্ধ করতে পারে আমেরিকা। তিনি বলেন, "খুব শীঘ্রই আমরা ওখান থেকে চলে আসব। আর দু-সপ্তাহ, বড়জোর তিন।” তাঁরই এই মন্তব্য যে যুদ্ধে ইতি টানার পরিষ্কার বার্তা, তাতে নিশ্চিত কূটনৈতিক মহলের একাংশ। পাশাপাশি, ট্রাম্প এ-ও পরিষ্কার করে দিয়েছেন, এর জন্য তেহরানের ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও চুক্তি করারও প্রয়োজন নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ইরানকে প্রস্তরযুগে পাঠানোই তাঁর লক্ষ্য। যাতে সহজে তারা ফের পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর শক্তি অর্জন করতে না পারে।
যদি সত্যিই কোনও চুক্তি ছাড়া ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে সরে আসেন, তাহলে নিশ্চিত ভাবেই প্রমাণিত হবে তিনি পিছু হটলেন। এর আগে গত রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন আমেরিকার ১৫ দফা শর্তের বেশিরভাগই মেনে নিয়েছে ইরান। তিনি বলেন, “যদিও ইরানের বিষয়ে কিছুই বলা যায় না। তা-ও আমরা জোর কদমে তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।” কিন্তু তাঁর এহেন দাবি ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রক একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি।
