ইরাকের রাজধানী বাগদাদের ব্যস্ত সড়ক থেকে অপহৃত মার্কিন সাংবাদিক (US journalist)। মঙ্গলবার সন্ধ্যেয় বাগদাদের আল সদৌন সড়ক থেকে শেলি কিটলসন (Shelly Kittleson) নামে ওই সাংবাদিককে তুলে নিয়ে যায় একদল দুষ্কৃতী। এই ঘটনায় ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র সংগঠন হেজবোল্লার হাত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ওই সাংবাদিকের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি।
জানা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির উপর দীর্ঘ বছর ধরে সাংবাদিকতা করছেন শেলি। ইরান যুদ্ধের জেরে ইরাকের উপর কী প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে খবর সংগ্রহের জন্য বাগদাদে এসেছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যেয় তাঁর হোটেলের সামনেই তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যায় একদল দুষ্কৃতী। ইরাক প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার পর পুলিশ দুষ্কৃতীদের ধাওয়া করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উলটে যায় একটি গাড়ি। সেই গাড়ি থেকে সন্দেহভাজন এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, গ্রেপ্তার হওয়া ওই সন্দেহভাজনের সঙ্গে ইরাকের মদতপুষ্ট হেজবোল্লার যোগ রয়েছে। অপহরণের সময়ের একটি ভিডিও সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তা থেকে জোর করে ওই সাংবাদিককে গাড়িতে তুলছে একদল দুষ্কৃতী। মাত্র কয়েক সেকন্ডের মধ্যে কাজ শেষ করে চম্পট দেয় তারা।
ইরান যুদ্ধের জেরে ইরাকের উপর কী প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে খবর সংগ্রহের জন্য বাগদাদে এসেছিলেন।
জানা যাচ্ছে, শেলি কিটলসন একজন স্বাধীন মার্কিন সাংবাদিক। দীর্ঘ বছর ধরে তিনি কাজ করেছেন ইরাক, আফগানিস্তান-সহ মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলগুলির সমস্যা নিয়ে। তাঁর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অল মনিটর, ফরেন পলিসি, বিবিসি, পলিটিকো এবং নিউ লাইনসে। আইএসআইএস-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় তাঁর একাধিক প্রতিবেদন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়। ইরাকে ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের ভূমিকা নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ইরাকে সাংবাদিকদের অপহরণের ঘটনা এই প্রথমবার নয়। এর আগে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে, রুশ-ইজরায়েলি গবেষক এলিজাবেথ সুরকভকে বাগদাদের একটি ক্যাফে থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। ইরাকপন্থী মিলিশিয়া কাতাইব হেজবুল্লার হাতে ৯০৩ দিন বন্দী থাকার পর মুক্তি পান তিনি।
