যে কোনও সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধবিমান-সহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম নতুন করে বহাল করেছে ওয়াশিংটন। ইজরায়েল একটি আকস্মিক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে ইরান সতর্ক করে দিয়েছে কোনও ধরনের হামলারই পরিণাম হবে ভয়াবহ। পুরো অঞ্চলটাই এক বৃহত্তর সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে। যদিও ট্রাম্পের থেকে এখনও কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বেশ কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আমেরিকা তার সেন্ট্রাল কমান্ডকে (সেন্টকম) শক্তিশালী করছে। এই নেতৃত্বই মধ্যপ্রাচ্যের অভিযানগুলির তত্ত্বাবধান করে। তারই অংশ হিসেবে যুদ্ধবিমান এফ-১৫ই এবং যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনকে ইরানের কাছাকাছি নিয়ে আসা হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে তার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও জোরদার করেছে আমেরিকা। ফলে বাতাসে অনেকেই বারুদের গন্ধ পাচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধবিমান-সহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম নতুন করে বহাল করেছে ওয়াশিংটন। ইজরায়েল একটি আকস্মিক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে ইরান সতর্ক করে দিয়েছে কোনও ধরনের হামলারই পরিণাম হবে ভয়াবহ।
মনে করা হচ্ছিল, যুদ্ধের মেঘ কেটে গিয়েছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামা আটশোর বেশি বিদ্রোহীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেও তা রদ করেছিল তেহরান। এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। মনে করা হচ্ছিল এবার বোধহয় চূড়ান্ত পদক্ষেপের থেকে সরে আসবে আমেরিকা। এখানেই শেষ নয়। গত বুধবার সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য রাখার সময়ও তিনি বলেছিলেন, আশা করা হচ্ছে, মৃত্যুদণ্ড রদের সিদ্ধান্তটা স্থায়ী হতে চলেছে। ফলে সম্ভবত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রয়োজন পড়বে না। কিন্তু ফের বদলাচ্ছে পরিস্থিতি। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ঘন হচ্ছে যুদ্ধের মেঘ।
ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা বিক্ষোভ দমনে তেহরানের ভূমিকার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে আমেরিকাকে আসরে নামতেই হবে। শোনা যাচ্ছিল, যুদ্ধের মেঘ ঘনাতে শুরু করেছে। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ডের বিরতি বিষয়টিকে অন্য চেহারা দিয়েছে বলেই মনে করেছিল ওয়াকিবহাল মহল। যদিও এবার ফের বদলাতে শুরু করেছে ছবিটা। সত্যিই আমেরিকা ইরানে আক্রমণ করবে কিনা তা এখনই বলা না গেলেও 'সিঁদুরে মেঘ' দেখছেন অনেকেই।
