যুদ্ধের জেরে ভারত-সহ বেশ কয়েকটি দেশকে সাময়িকভাবে রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ‘ছাড়’ দিয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু সেই ছাড়ের মেয়াদ আর বৃদ্ধি করা হবে না। হরমুজ প্রণালীতে মহাসংকটের মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিপাকে পড়তে পারে নয়াদিল্লি। রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানি তেলের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য বলে জানা গিয়েছে।
বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট বলেন, “রুশ এবং ইরানি তেল কেনার ক্ষেত্রে যে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। নবীকরণ করা হবে না লাইসেন্স। এই ছাড় শুধু সেই তেলের জন্য ছিল, যা ১১ মার্চের আগে জাহাজে লোড হয়ে সমুদ্রে পৌঁছে গিয়েছিল। সেই তেল ইতিমধ্যেই ব্যবহৃত হয়ে গিয়েছে। যদি কোনও দেশ রুশ এবং ইরানি তেল কেনে, তাহলে আমরা তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করব।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে চাপে পড়তে পারে ভারত। কারণ, যুদ্ধের সময়ে মার্কিন ছাড়ের ফলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে অস্থিরতার মধ্যেও রুশ তেল আমদানি করে গিয়েছে ভারত। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সময়কালে ভারতীয় তৈল শোধনাগারগুলি প্রায় ৩০ মিলিয়ান ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করে। চলতি বছরের শুরুতে আমেরিকার চাপে ভারতের বড় তেল শোধনাগারগুলি রুশ তেল আমদানি কমিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতিতে 'ছাড়' মেলার পর তারা ফের রুশ তেল আমদানির পথে পা বাড়ায়। শুধু তা-ই নয়, এই সময়কালে দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর ভারতে পৌঁছয় ইরানি তেলও। কিন্তু এবার রুশ-ইরানি তেল কেনায় ছাড় বন্ধ করে দিল আমেরিকা।
