কিরঘিজস্তানে ২৬তম এসসিও সম্মেলনে (সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ানের সঙ্গে পার্শ্ববৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাতে ক্ষুব্ধ আমেরিকা। বিষয়টি নিয়ে এবার মুখ খুললেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। বললেন, “কোনও দেশেরই ইরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা উচিত নয়।”
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, “স্বাভাবিকভাবেই, বিভিন্ন দেশ নিজেদের বিদেশনীতির অংশ হিসাবে ইরানি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আমরাও তেহরানের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে একসময়ে বৈঠক করেছি। কিন্তু সব আলোচনা ব্যর্থ।ইরানের সঙ্গে যে দেশগুলি যোগাযোগ রাখছে, তা নিয়ে ওয়াশিংটন অবগত। প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও দেশেরই ইরানকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা উচিত নয়। শুধু তাই নয়, এমন কোনও ব্যবস্থা তৈরিতেও সাহায্য করা উচিত নয়, যার মাধ্যমে ইরান অর্থ উপার্জন করতে পারে। সেই অর্থ ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া ও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “যদি দেশগুলি তেমনটাই সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমাদের তাদের উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।” মোদি-পেজেসকিয়ান বৈঠকের পরই জল্পনা ছড়িয়েছে যে নয়াদিল্লি এবং তেহরান বাণিজ্যচুক্তির পথে এগোচ্ছে। তবে সেই জল্পনা খারিজ করে দিয়েছেন রুবিও।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন মোদি। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। পারস্পরিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে, এমন বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরান ও ভারতের মধ্যে যৌথ সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন মোদি ও পেজেসকিয়ান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি এবং অন্যান্য শীর্ষকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন হাই প্রোফাইল বৈঠকে। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা-সহ একাধিক বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
