দু'মাস পেরিয়ে গিয়েছে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের (US Iran War)। কবে লড়াইয়ে যতিচিহ্ন পড়বে তা এখনও অজানা। এই পরিস্থিতিতে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর দাবি! ইরানের কৃত্রিম উপগ্রহ প্রকাশিত ছবি থেকে দেখা গেল মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলিতে প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। যে তথ্য চেপে রাখতে চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'ওয়াশিংটন পোস্ট'-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনেই এই দাবি করা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শতাধিত কৃত্রিম উপগ্রহে তোলা ছবি থেকে পরিষ্কার ১৫টি সেনা ঘাঁটিতে অন্তত ২২৮টি নির্মাণের ভাঙা অংশ দেখা গিয়েছে। এটি আমেরিকার মতো প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত একটি দেশের জন্য উল্লেখযোগ্য ক্ষতির ইঙ্গিত। এথেকে এও বোঝা যাচ্ছে, ট্রাম্পের দল ইরানের কাছ থেকে এমন বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশাই করেনি। এমন 'মার' ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলির মধ্যে রয়েছে হ্যাঙ্গার, ব্যারাক, বিমান, রাডার, যোগাযোগের যন্ত্রপাতি-সহ আরও বহু কিছুই। সব মিলিয়ে কোটি কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে আমেরিকার।
ইরানের কৃত্রিম উপগ্রহ প্রকাশিত ছবি থেকে দেখা গেল মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলিতে প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। যে তথ্য চেপে রাখতে চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এদিকে সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম ‘আল আরাবিয়া’র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান এবং আমেরিকা বৃহস্পতিবার একটি চুক্তি স্বাক্ষরে রাজি হয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী, দু’পক্ষই দ্রুত হরমুজে অবরোধ তুলে নেবে। ফলে আগের মতো আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে দাবি করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’কে কেন্দ্র করে একদফা যুদ্ধ শুরু হয় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে। ইরান দাবি করে, তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। পালটা আমেরিকা জানায়, ইরান হামলা চালিয়েছিল কিন্তু সেই হামলা রুখে দেওয়া হয়েছে। ইরানের ৬টি নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর তেল ভাণ্ডার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই ঘটনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ''আমরা যুদ্ধ করতে চাইছি না। ওরা বলছে ওরা নাকি প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু ওরা করছে না। আমেরিকা ইরানের হামলা থেকে জাহাজগুলিকে রক্ষা করছে।''
