সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রেসিডেন্টের পর এবার গোটা ভেনেজুয়েলাকেই বন্দি করবে আমেরিকা! মার্কিন যুদ্ধসচিব পিট হেগসেথ জানিয়ে দিলেন, বিশ্বের সমস্ত প্রান্তেই ভেনেজুয়েলার তেল নিষিদ্ধ। বুধবারই ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে রাশিয়ার এক তৈলবাহী জাহাজ দখল করেছে মার্কিন ফৌজ। তারপরেই ভেনেজুয়েলার তেলকে সরাসরি 'বেআইনি' বলে ঘোষণা করলেন হেগসেথ। পরে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ভেনেজুয়েলার যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবে আমেরিকাই।
বিশ্বের বৃহত্তম তেলের ভান্ডার রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। কিন্তু সেখানে তেল উত্তোলনের পরিমাণ তুলনায় অনেক কম। তা সত্ত্বেও দেশটির অর্থনীতিই দাঁড়িয়ে রয়েছে তেলের ব্যবসার উপর। যা তেল উৎপাদন হয়, তার বেশিরভাগটাই কেনে চিন। বেশ কয়েকদিন বাগযুদ্ধের পর গত শনিবার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ভবনে ঢুকে নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন ফৌজ। তারপরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, আমেরিকাই পরিচালনা করবে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিকে।
মঙ্গলবার আমেরিকা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, চিন, রাশিয়া এবং ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তবেই তেল উত্তোলনে ‘অনুমতি’ দেবে আমেরিকা। এছাড়াও তেল ব্যবসায় শুধু আমেরিকার সঙ্গেই চুক্তি করতে হবে ভেনেজুয়েলাকে, শর্ত ওয়াশিংটনের। তারপরেই রুশ জাহাজ দখল করে মার্কিন ফৌজ। মার্কিন অবরোধ পেরিয়ে ভেনেজুয়েলায় প্রবেশের চেষ্টা করছিল এই জাহাজ। সম্ভবত ভেনেজুয়েলা থেকে তেল নিতে ব্যর্থ হয়ে ফেরার পথেই মার্কিন দখলে চলে যায় জাহাজটি।
তারপরেই এক্স হ্যান্ডেলে হেগসেথের ঘোষণা, 'ভেনেজুয়েলার তেলের উপর মার্কিন অবরোধ গোটা বিশ্বজুড়েই কার্যকর থাকছে। যারা ঘুরপথে ভেনেজুয়েলার তেল কেনার চেষ্টা করছে তাদের উপরেও রয়েছে মার্কিন অবরোধ। এই ভাবে তেল কেনার অর্থ ভেনেজুয়েলার সম্পদ চুরি। আমেরিকা যাদের বৈধ বলে মনে করবে, কেবল তারাই ভেনেজুয়েলা থেকে তেল নিতে পারবে।' পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে লেভিট বলেন, ভেনেজুয়েলা সরকারের যাবতীয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করবে হোয়াইট হাউস। মার্কিন ফৌজের জাহাজ দখলের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে রাশিয়াও। তাহলে কি ট্রাম্পকে পালটা দেবেন ভ্লাদিমির পুতিন?
