রণভূমিতে নয়, খাতায়কলমে শুরু হয়ে গেল 'যুদ্ধ'? রাশিয়া, ইরান, আফগানিস্তান-সহ মোট ৭৫টি দেশের জন্য ভিসা বন্ধ করতে চলেছে আমেরিকা। মূলত অভিবাসী নিয়ন্ত্রণের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, বিরাট সংখ্যক মানুষকে আমেরিকা থেকে 'নিষিদ্ধ' করে কি অশান্তি ডেকে আনলেন ট্রাম্প?
গত বছরের নভেম্বর মাসে হোয়াইট হাউস এলাকায় গুলি চালান এক আফগান নাগরিক। তার জেরে মৃত্যু হয় এক ন্যাশনাল গার্ডের। তারপরেই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির নাগরিকদের জন্য আমেরিকার দরজা চিরতরে বন্ধ করে দেবেন। এবার সেই পথেই এগোচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। সূত্রের খবর, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ৭৫টি দেশের ভিসা একেবারে সাসপেন্ড করে দিতে চলেছে মার্কিন বিদেশ দপ্তর। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে এই ৭৫ দেশের নাগরিকদের মার্কিন ভিসা প্রদান।
৭৫টি দেশের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে ওয়াশিংটনের শত্রু ইরান এবং রাশিয়া। এছাড়াও সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, ইরাক, মিশর, ইয়েমেন, থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলির নাগরিকদের জন্যও বন্ধ হতে চলেছে আমেরিকার ভিসা। তবে সরকারিভাবে এখনও এই বিষয়টি নিয়ে ঘোষণা করা হয়নি আমেরিকার তরফে। তবে ৭৫টি দেশের মার্কিন দূতাবাসকে ইতিমধ্যেই এই মর্মে নির্দেশিকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বিদেশ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। এই দেশগুলির তালিকায় ভারতের নাম রয়েছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে হামলার পরেই ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি মার্কিন সিস্টেমকে সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধারের জন্য তৃতীয় বিশ্বের সমস্ত দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করব। ‘ঘুমন্ত’ জো বাইডেনের অটোপেন স্বাক্ষরিত লক্ষ লক্ষ অবৈধ প্রবেশাধিকার বাতিল করব। যাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘মূল সম্পদ’ নন, অথবা আমাদের দেশকে ভালোবাসতে অক্ষম, তাঁদের সকলকে অপসারিত করব।' কিন্তু এই পদক্ষেপের প্রভাব কূটনৈতিক ক্ষেত্রে কতখানি পড়বে? মার্কিন 'গা জোয়ারি'র পালটা দেবে ইরান-রাশিয়া? উত্তর দেবে সময়।
