মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে গাজা শান্তিকমিটিতে যোগ দিয়েছে পাকিস্তান। শুক্রবার সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এ ‘বোর্ড অফ পিস’-এর সনদে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে অন্যান্য দেশের প্রধানদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও। এই পরিস্থিতিতে গাজা শান্তিকমিটিতে পাকিস্তানের যোগ নিয়ে প্রবল আপত্তি তুলল আমেরিকার ‘বন্ধু’ ইজরায়েল।
এ প্রসঙ্গে ইজরায়েলের অর্থমন্ত্রী নীর বারকাত স্পষ্টভাবে বলেন, “যে দেশগুলি সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে, তাদের গাজা শান্তিকমিটিতে স্বাগত জানানো হবে না। এই তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানও।” তবে শুধু পাকিস্তান নয়। শান্তিকমিটিতে তুরস্ক এবং কাতারের প্রবেশ নিয়েও আপত্তি তুলেছে তেল আভিভ। বারকাতের কথায়, “কাতার এবং তুরস্ক গাজায় জেহাদি সংগঠনের প্রতি বরাবরই সমর্থন জানিয়ে এসেছে।” তবে শান্তিকমিটি নিয়ে ট্রাম্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, রাষ্ট্রসংঘকে 'পক্ষপাতদুষ্ট' বলে অভিহিত করে তিনি গাজা শান্তিকমিটিকে 'নিরপেক্ষ' আখ্যা দিয়েছেন।
গাজা শান্তিকমিটিতে যোগ নিয়ে নিজের ঘরেও সমালোচনার শিকার হয়েছেন শাহবাজ। প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী তথা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টির নেতা ইমরান খান বলেন, "শান্তিকমিটিতে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সিদ্ধান্ত। এটি জনগণের মতামত ছাড়া নেওয়া যায় না।"
প্রসঙ্গত, ইজরায়েলের সঙ্গে পাকিস্তানের বিরোধ আন্তর্জাতিক মহলে সর্বজনবিদিত। প্যালেস্তাইনের সমর্থক পাকিস্তান আজও ইজরায়েলকে রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দেয়নি। তা নিয়ে ইজরায়েলের ক্ষোভ তো রয়েইছে। সেই কারণে ইজরায়েল কখনওই চায়নি, পাকিস্তানের হাতে পরমাণু বোমা থাকুক। তেল আভিভের বক্তব্য, এতে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। আশির দশকে ভারত এবং ইজরায়েল যৌথ ভাবে পাকিস্তানের পরমাণু প্রকল্প আটকানোর চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ করে থাকে পাকিস্তানও।
গাজার জন্য ট্রাম্পের শান্তিকমিটি ঘোষণাকে তাঁর ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার ‘দ্বিতীয় ধাপ’ বলা হচ্ছে। এই কমিটি আপাতত গাজার শাসনভার নেবে। তদারকি করবে গাজা পুনর্গঠনের দায়িত্বে থাকা টেকনোক্র্যাট কমিটির কাজ। এতে গাজার সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে জোর দেওয়া হয়েছে। সমিতির শীর্ষে রয়েছেন স্বয়ং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাঁর তৈরি কমিটিতে রয়েছেন প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিও, পশ্চিম এশিয়ায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার, বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গা, ধনকুবের মার্ক রোয়ান, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল। পশ্চিম এশিয়ার শান্তি প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ থাকবেন ‘হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ’ হিসাবে।
