বিশ্বব্যাপী 'সমুদ্রকর্মী'দের প্রায় ১২.২ শতাংশই ভারতীয়। যদিও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্বের জ্বালানির ধমনী হরমুজের জাহাজগুলিতে বারবার হামলা হয়েছে। ক'দিন আগেই দিল্লি জানিয়েছিল, ছয় মাস অতিক্রান্ত অশান্তিতে ১৬ জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন নাবিক। এবার ভারতীয় নাবিকদের সংগঠন গত এপ্রিল মাসের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। যেখানে দেখা গিয়েছে, ইরান-আমেরিকার যুদ্ধের জেরে কতটা ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে ভারতীয় নাবিকরা।
ভিডিওটি গত ২২ এপ্রিলের। হরমুজে পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী একটি জাহাজ ঘিরে ফেলে হামলা চালায় ইরানের ইসলামিক রেভিলিউশনারি গার্ড কর্পস। ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, রকেটচালিত গ্রেনেড নিক্ষেপে করা হচ্ছে পণ্যবাহী জাহাজটিকে লক্ষ্য করে। উপায়হীন পরিস্থিতিতে প্রাণ বাঁচাতে নাবিকরা জাহাজের ভেতরে আশ্রয় নিচ্ছিলেন। সেই সময় কেন্দ্রের জাহাজ মন্ত্রক জানিয়েছিল, জাহাজটিতে ২১ ভারতীয় নাবিক ছিলেন। যদিও হামলায় জাহাজের ক্ষতি হলেও ভারতীয় নাবিকরা নিরাপদেই রয়েছেন।
গত মাসে এক ভারতীয় মৃত্যুর ঘটনায় ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল নয়াদিল্লি। এই ধরনের ঘটনায় ইরানকে কড়া বার্তা পাঠানো হয়। এছাড়াও ওই অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত শুরুর প্রেক্ষাপটে জাহাজ মালিক, জাহাজ ব্যবস্থাপক এবং নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে বিশেষ নির্দেশকা দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। এক বিবৃতিতে বলা হয়--- হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী কোনও জাহাজে ভারতীয় নাবিকদের যেন নিয়োগ না করা হয়।
চলতি মাসের শুরুতে এক বিবৃতিতে জাহাজ মন্ত্রক জানিয়েছে, বিপজ্জনক উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ৩,৯৭২ জন ভারতীয় নাবিককে। ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছিল। ওই কন্ট্রোল রুমে নাবিক এবং তাঁদের পরিবারের লোকেদের কাছ থেকে ১৫,৭৭১টি ফোন এবং ৩৬,৪৯৯টি ইমেল এসেছে। এইসঙ্গে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ১৬ জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন নাবিক। ‘সিফেয়ারার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ড সোসাইটি’-র মাধ্যমে মৃত নাবিকদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে একদিকে যেমন জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেছে দিল্লি, অন্যদিকে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। ইরান, আমেরিকা ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বারবার ফোনে কথা বলেন বিদেশমন্ত্রী জয়শংকর, এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। সেই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে কেন্দ্রের সূত্রে। আমেরিকা-ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ, হরমুজের পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে ভারত সরকার।
