যুদ্ধের জেরে ‘তৈল ধমনী’ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করেছে ইরান। যার জেরে এবার জ্বালানি সংকটে পাকিস্তান! জানা যাচ্ছে, জ্বালানি বাঁচাতে কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে শাহবাজ শরিফের সরকার। শীঘ্রই পাকিস্তানের বেশিরভাগ সরকারি এবং বেসরকারি অফিসের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি, স্কুল-কলেজগুলিতেও শুরু হতে পারে অনলাইন পঠনপাঠন। পাকিস্তানজুড়ে কার্যত ফিরছে করনো-স্মৃতি।
ঋণের দায়ে জর্জরিত ইসলামাবাদের কোমড় আগেই ভেঙে গিয়েছে। কিন্তু এবার দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হওয়ায় পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইরান যুদ্ধের জেরে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকতে পারে হরমুজ। এই পথ দিয়েই পাকিস্তান প্রচুর পরিমাণ তেল আমদানি করে। ফলে হরমুজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে পাকিস্তানের জ্বালানি সরবরাহ বিরাট ধাক্কা খাবে। তাই আগেভাগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে পাক সরকার।
পাক সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোভিডের সময় বিশ্বজুড়ে ঠিক যে যে পদক্ষেপগুলি করা হয়েছিল, বর্তমানে জ্বালানি বাঁচাতে পাকিস্তানে সেগুলি ফের ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা চলছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী মাস থেকে পাকিস্তানের সরকারি এবং বেসরকারি অফিসগুলিতে নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক কর্মী ছাড়া বাকিদের বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। তবে দেশের আইটি সংস্থাগুলির কর্মীদের সপ্তাহে অন্তত দু’দিন অনলাইনে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।
পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মহম্মদ আওরঙ্গজেব জানিয়েছেন, বর্তমানে পাকিস্তানের কাছে প্রায় ২৫ দিনের পেট্রল-ডিজেলের মজুত রয়েছে, অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে ১০ দিনের এবং এলপিজি মজুত রয়েছে ১৫ দিনের। তাই এই পরিস্থিতিতে সরকার জ্বালানি ব্যবহারে সতর্ক রয়েছে।
