অবশেষে যুদ্ধবিরতি। প্রায় দেড় মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্য পুড়ছিল যুদ্ধের গনগনে আঁচে। শেষপর্যন্ত সংঘর্ষবিরতিতে রাজি ইরান এবং আমেরিকা। যদিও এই যুদ্ধবিরতি আদৌ টিকবে কিনা জানা যাচ্ছে না। তবু, আপাতত যে যুদ্ধ থামার পরিস্থিতি তৈরি হল তাও অভাবনীয়ই। কেননা মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'একটা গোটা সভ্যতা' ধ্বংসের দাবি ঘিরে চাঞ্চল্যের পারদ তুঙ্গে পৌঁছেছিল। বিশেষ করে যখন জানা যায়, পারমাণবিক অস্ত্রবাহী বি-৫২ মার্কিন মুলুক থেকে উড়ে গিয়েছে! অন্যদিকে ইরানও তৈরি ছিল মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি ওড়াতে। শেষপর্যন্ত অপ্রত্যাশিত ভাবে পরিস্থিতি যুদ্ধবিরতির দিকে এগোল। আচমকাই। আর এই যুদ্ধে শেষপর্যন্ত নত হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পই। তেমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
অথচ এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না। ইরানকে কার্যতই ক্ষতবিক্ষত করেছে আমেরিকা। মারা গিয়েছেন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেই। পরবর্তী সুপ্রিম লিডার মোজতবাকে নিয়েও নানা আশঙ্কা পাক খাচ্ছে। এমতাবস্থায় কেন ট্রাম্পই পিছু হটলেন? হরমুজে নিয়ন্ত্রণ চেয়েও পেলেন না। ইরান পরিষ্কার করে দিয়েছে, যুদ্ধের আগে প্রণালী যে অবস্থায় ছিল তা আর কখনওই ফিরে আসবে না। পাশাপাশি ইরানের উপর থেকে প্রাথমিক ও পরবর্তী স্তরের সমস্ত রকমের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। দিতে হবে সমস্ত রকমের ক্ষতিপূরণ। আরও নানাবিধ শর্ত। সব এককথা মেনে নিয়েছেন 'ডন'! কেন?
এর উত্তর নিহিত রয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়কের আচরণে দৃশ্যমান হতাশায়। যেভাবে ইরানের কাছে হালে পানি না পেয়ে ট্রাম্প গালাগালি শুরু করেছিলেন তা দেখে হতাশ হয়ে পড়েন মার্কিন সেনাকর্তারা। আসলে ট্রাম্প বুঝতে পারছিলেন, পরিস্থিতি ঠিক সেভাবে এগোচ্ছে না, যেভাবে তিনি চেয়েছিলেন।
যুদ্ধে নামার আগে বিরোধিতার আঁচ পাননি ট্রাম্প। ছবি সংগৃহীত।
কেন ট্রাম্পই পিছু হটলেন? হরমুজে নিয়ন্ত্রণ চেয়েও পেলেন না। ইরান পরিষ্কার করে দিয়েছে, যুদ্ধের আগে প্রণালী যে অবস্থায় ছিল তা আর কখনওই ফিরে আসবে না। আরও নানাবিধ শর্ত। সব এককথা মেনে নিয়েছেন 'ডন'!
কেবল সেনাই নয়। রিপাবলিকান থেকে ডেমোক্র্যাট, সেলেব থেকে সাধারণ নাগরিক- আমেরিকাজুড়ে প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প। ‘নো কিংস’ দাবিতে পথে নেমে পড়েন ৯০ লক্ষ আমেরিকান! এটা ট্রাম্পের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পর ‘নো কিংস ৩.০’! আর এবার যত মানুষ, যত সংগঠন মাঠে নেমেছিল তা আমেরিকায় কখনও হয়নি। এমন বৃহত্তর আন্দোলনে ট্রাম্প সবথেকে বেশি চাপে পড়ে যান। তার উপর সামনেই 'মিড টার্ম ইলেকশন'। সেখানে যে রিপাবলিকানরা চাপে পড়তে চলেছে তাও একরকম নিশ্চিত হয়েই গিয়েছে যেন!
এমনিতেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের 'শুল্কবোমা'য় আমেরিকার আমজনতার পকেটে টান পড়েছে। তারপর এই যুদ্ধজিগিরে সকলেই বিরক্ত। মানুষের প্রশ্ন, স্বাস্থ্যখাতে খরচের সময় টাকা থাকে না, অথচ এই 'অনর্থক' লড়াই করতে কোটি কোটি ডলার খরচ করা যায় নিমেষে! এহেন পরিস্থিতিতে ঢোঁক গেলা ছাড়া ট্রাম্পের আর কিছুই করার ছিল না আসলে। হাল্লার মন্ত্রীর মতোই তিনিও ব্যর্থ হলেন। আর হাড়ে হাড়ে বুঝলেন ক্ষমতার দম্ভ কীভাবে গলার ফাঁস হয়ে উঠতে পারে!
