সাংবাদিকতার অস্কার হিসেবে পরিচিত পুলিৎজার পুরস্কার পেলেন দুই ভারতীয়। ডিজিটাল নজরদারি ও সাইবার ক্রাইমের পর্দাফাঁস করে এই পুরস্কার জিতে নিলেন ভারতের দুই সাংবাদিক আনন্দ আর কে এবং সুপর্ণা শর্মা। সোমবার ওই দুই সাংবাদিক এই পুরস্কার সচিত্র রিপোর্টিং ও কমেন্ট্রি বিভাগে। পাশাপাশি এই বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছেন ব্লুমবার্গের সাংবাদিক ন্যাটালি ওবিকো পিয়ারসন।
পুলিৎজার পুরস্কারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ‘ট্র্যাপড’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনটি ব্লুমবার্গের জন্য নির্মিত হয়েছিল। যেখানে একজন ভারতীয় স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের লোমহর্ষক কাহিনী বর্ণনা করা হয়। তিনি ‘ডিজিটালি গ্রেপ্তার’ শিকার হয়েছিলেন। প্রতারকরা তাঁর থেকে হাতিয়ে নেয় ২৮ লক্ষের বেশি টাকা এই প্রতিবেদন ডিজিটাল নজরদারি এবং বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সাইবার প্রতারণার ভয়াবহতা তুলে ধরে।
ডিজিটাল নজরদারি ও সাইবার ক্রাইমের পর্দাফাঁস করে এই পুরস্কার জিতে নিলেন ভারতের দুই সাংবাদিক আনন্দ আর কে এবং সুপর্ণা শর্মা।
পাশাপাশি এই বিভাগে চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত পুলিৎজার হাতছাড়া হয় এক বাঙালির। তিনি দেবজ্যোত ঘোষাল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে বিস্তৃত সাইবার অপরাধ এবং মানব পাচার চক্রের র্যাকেট ফাঁস করেন তিনি। তাঁর প্রতিবেদনে উঠে আসে কীভাবে অপরাধীরা ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে সাইবার অপরাধ চালাতে মানব পাচারকে হাতিয়ার করে। তাঁদের বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়। দেবজ্যোত ঘোষাল বর্তমানে ব্যাংককে থাকেন।
উল্লেখ্য, পুলিৎজার মঞ্চে বাঙালির আধিপত্য এই প্রথমবার নয়। বিখ্যাত সাংবাদিক জোসেফ পুলিৎজারের নামাঙ্কিত এই সম্মান ১৯৩৭ সালে প্রথম কোনও ভারতীয়ের হাতে উঠেছিল। তিনি ছিলেন, গোবিন্দ বিহারী লাল। এরপর ২০০০ সালে 'ইন্টারপ্রেটার অফ ম্যালাডিজ' বইয়ের জন্য এই পুরস্কার পান ঝুম্পা লাহিড়ী। ২০১১ সালে 'দ্য এম্পেরর অফ অল ম্যালাডিজ' বইয়ের জন্য পুরস্কৃত হন সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়। সর্বশেষ চিত্র সাংবাদিকতার জন্য ২০১৮ সালে এই পুরস্কার পেয়েছিলেন দানিশ সিদ্দিকী। মরণোত্তর পুলিৎজার দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।
