গ্রিনল্যান্ড চাই-ই চাই! ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবি নিয়ে সরগরম আন্তর্জাতিক রাজনীতি। এই বিষয়টি নিয়ে এবার একযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিঁধল রাশিয়া এবং চিন। রাশিয়ার বক্তব্য, সামরিক অভিযান চালিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদি এ কাজ করেন, তা হলে তাঁর নাম শুধু আমেরিকা নয়, গোটা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। চিনেরও বক্তব্য, বেজিংকে অস্ত্র করেই নিজের স্বার্থসিদ্ধি করে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলেই গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবি তুলেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, মেরু প্রদেশে আনাগোনা বাড়িয়ে আমেরিকার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে রাশিয়া এবং চিন। অবিলম্বে গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে তা রুখতে না পারলে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। সেই কারণে প্রয়োজনে সামরিক অভিযান চালিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখল করার কথা বলেছে ওয়াশিংটন। গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রক ডেনমার্কও পালটা জানিয়ে দিয়েছে, তারাও নিজেদের মতো করে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এই সংঘাতের জেরে প্রশ্নের মুখে পড়েছে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোও। ডেনমার্ক জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকা যদি জোরজবরদস্তি গ্রিনল্যান্ড দখল করতে যায়, ন্যাটো ভেঙে যাবে! ডেনমার্কের এই অবস্থানের পাশে দাঁড়িয়েছে ন্যাটোর শরিক ইউরোপের বিভিন্ন দেশও। ফ্রান্সের মত, আমেরিকা গ্রিনল্যান্ড করলে সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিন্তু তার পরেও নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হঠেনি আমেরিকা। এই পরিস্থিতিতে একযোগে বিবৃতি দিল রাশিয়া এবং চিন।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেই ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। ডেনমার্কের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, আমেরিকার সঙ্গে বৈঠকে একাধিক বিষয় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। তবে মৌলিক কিছু বিষয়ে মতভেদ থেকেই গিয়েছে।
