নামেই কি লুকিয়ে থাকে সাফল্যের চাবিকাঠি? নাকি কর্মই মানুষের শেষ কথা? সাধারণ মানুষের মনে এই প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। বলিউডের মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন থেকে শুরু করে অক্ষয় কুমার— অনেকের ক্ষেত্রেই নাম বদলের পর সাফল্যের গ্রাফ আকাশ ছুঁয়েছে। অমিতাভ বচ্চনের নাম ছিল ইনকিলাব শ্রীবাস্তব। রাজীব ভাটিয়া থেকে অক্ষয় কুমার হয়ে ওঠার গল্পও কারও অজানা নয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, স্রেফ নাম বদলালেই কি কর্মফল বদলে যায়?
প্রতীকী ছবি
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার তৃতীয় অধ্যায়ের পঞ্চম শ্লোকে বলা হয়েছে, “ন হি কশ্চিৎ ক্ষণমপি জাতু তিষ্ঠত্যকর্মকৃৎ”। অর্থাৎ, মানুষ এক মুহূর্তও কর্ম ছাড়া থাকতে পারে না। শাস্ত্র মতে, কর্মই মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করে। নাম পরিবর্তন সরাসরি কর্মফল বদলাতে পারে না। তবে নামের একটি স্বতন্ত্র মহিমা রয়েছে।
আধ্যাত্মিক গুরুদের মতে, নাম কেবল পরিচয় নয়, এটি একটি ‘নাদ’ বা শব্দ-কম্পন। মাণ্ডূক্য উপনিষদ শব্দ ও চেতনার গভীর সম্পর্কের কথা বলে। প্রতিটি নামের একটি নির্দিষ্ট ভাইব্রেশন বা কম্পন থাকে। এই কম্পন মানুষের অবচেতন মনে প্রভাব ফেলে।
আধ্যাত্মিক গুরুদের মতে, নাম কেবল পরিচয় নয়, এটি একটি ‘নাদ’ বা শব্দ-কম্পন। মাণ্ডূক্য উপনিষদ শব্দ ও চেতনার গভীর সম্পর্কের কথা বলে। প্রতিটি নামের একটি নির্দিষ্ট ভাইব্রেশন বা কম্পন থাকে। এই কম্পন মানুষের অবচেতন মনে প্রভাব ফেলে। নাম বদলালে একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি বাড়তে পারে। এটি তাকে নতুন উদ্যমে কর্ম করতে উদ্বুদ্ধ করে। অর্থাৎ, নাম কর্মফল বদলায় না, বরং কর্ম করার মানসিক ভঙ্গি বদলে দিতে পারে।
পুরাণেও নাম বদলের বহু নজির রয়েছে। রত্নাকর দস্যু থেকে বাল্মীকি হওয়া। তবে এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই নাম বদল হয়েছে কঠিন সাধনা ও আত্মিক উত্তরণের পর। এখানে নাম পরিবর্তনের চেয়েও ব্যক্তির চারিত্রিক ও কর্মগত রূপান্তরই প্রধান ছিল। নরেন্দ্রনাথ থেকে হয়ে ওঠা বিশ্ববন্দিত স্বামী বিবেকানন্দ সেই প্রত্যক্ষ উদাহরণ।
প্রতীকী ছবি
আধ্যাত্মিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নাম হল বাহন আর কর্ম হল চালক। নাম বদলালে অনেক সময় মানুষের মধ্যে এক নতুন পরিচয়ের জন্ম হয়। এটি নেতিবাচক স্মৃতি মুছে ফেলে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। গরুড় পুরাণ অনুযায়ী, মায়া ত্যাগ করা গেলেও কর্ম ত্যাগ করা অসম্ভব। ছায়ার মতো কর্ম মানুষকে অনুসরণ করে।
পরিশেষে বলা যায়, কেবল নামের বানান বা অক্ষর বদলে রাতারাতি ভাগ্য বদলানোর ধারণাটি ভ্রান্ত। তবে নাম যদি মানুষের মনে ইতিবাচক সংকল্প তৈরি করতে পারে, তবে তার প্রভাব কর্মে পড়তে বাধ্য। আর উন্নত কর্মই শেষ পর্যন্ত শুভ ফল নিয়ে আসে। স্রেফ নাম নয়, অভ্যাসের বদলই আসলে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার আসল হাতিয়ার।
