হামের প্রকোপ বেড়েই চলেছে বাংলাদেশে। ইতিমধ্যেই মৃত শিশুর সংখ্যা ৪৫১। আক্রান্ত ৫০ হাজারেরও বেশি। এই পরিস্থিতিতে অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মহম্মদ ইউনুস ও তাঁর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমকে দায়ী করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনত পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে করা হল মানববন্ধন। ঢাকার মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাঙ্কের সামনে হওয়া এই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন এইচইউএমের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল আহমেদ। হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ইউনুস সরকার এড়াতে পারে না বলে দাবি বাম ছাত্র ইউনিয়নের।
২০২৪ সালে ৮ আগস্ট ক্ষমতা গ্রহণ করার পরই ইউনুস ইউনিসেফের থেকে টিকা কেনা বন্ধ করে ব্যক্তিভাবে টিকা কেনার ব্যবস্থা করেন। টিকা কেনার অব্যবস্থার কারণেই পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেই টিকা কেনার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু ততদিনে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে গিয়ে ব্যাপকভাবে শিশুমৃত্যু ঘটতে শুরু করে দিয়েছে। যে পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে ইউনুসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।
ঢাকার মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাঙ্কের সামনে হওয়া এই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন এইচইউএমের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল আহমেদ। হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ইউনুস সরকার এড়াতে পারে না বলে দাবি বাম ছাত্র ইউনিয়নের।
ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা এবং সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ''দেশে হাম মহামারির আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালগুলিতে স্বজনহারাদের হাহাকার শোনা যাচ্ছে। নুরজাহান বেগম জানিয়েছিলেন ড. মহম্মদ ইউনুসের পরামর্শেই হামের টিকা কেনার প্রচলিত পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছিল। বাংলাদেশে ইউনিসেফের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ রানা ফ্লাওয়ারসের সাম্প্রতিক বক্তব্যেও হামের টিকা কেনার ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদাসীনতা ও গাফিলতির স্পষ্ট প্রমাণ উঠে এসেছে। গোয়ার্তুমির কারণেই প্রায় নির্মূল হয়ে যাওয়া হাম দেশে মহামারির আকার ধারণ করেছে। সরকার শিশুহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গড়িমসি করলে রাজপথে গণআন্দোলন গড়ে উঠবে।''
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে আরও ১২ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে চারজন শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল বাকি ৮ জনের। সরকারি হিসেবে, গত ১৫ মার্চ থেকে এই অসুখে আক্রান্ত হয়ে ৪৫১টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে বেসরকারি মতে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি।
