বাংলাদেশে ভারী বর্ষণে ভয়ংকর বিপর্যয়। কক্সবাজার জেলার উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাছে পাহাড় ধস নামে। রবিবার ভোররাতের এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। নিহতরা সকলেই রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
ছাত্তারের ঘোনা এলাকায় প্রথম পাহাড়ে ধস নামায় নিহত হন ৪৫ বছরের আলি আকবর। ভোর চারটার দিকে পাহাড়ের একটি অংশ তাঁর ঘরের উপর ধসে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, পাহাড়ধসের পর আলি আকবর-সহ তাঁর পরিবারের তিন সদস্য
মাটির নিচে চাপা পড়েন। আশপাশের লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলি আকবরকে মৃত ঘোষণা
করেন। অপর দু'জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এক মহিলা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘রাতে আমরা একসঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলাম। সে ঘুম ভাঙল না তাদের।’ দেড় বছর আগে আরাকান আর্মির গুলি–বোমা থেকে বাঁচতে পরিবারটি বালুখালী আশ্রয়শিবিরে পালিয়ে এসেছিল। ঘর বানিয়েছিল পাহাড়ের ঢালে। সেখানেই বিপর্যয়। কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরে আজ সোমবার সকালটা ছিল শোক আর আতঙ্কের। ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে কক্সবাজারের তিনটি আশ্রয়শিবিরে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বালুখালী, কুতুপালং ও জামশিয়া আশ্রয়শিবিরের চারটি স্থানে পৃথকভাবে পাহাড়ে ধস নামে। এর মধ্যে বালুখালী শিবিরেই এক পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। ভূমিধসে ক্যাম্পের সি-১১ নম্বর ব্লকের ১৫টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ও ঢালে নির্মাণ করা হয়েছিল ওই ঘরগুলি। প্রবল বর্ষণে মাটি আলগা হলে ধসে ঘরগুলো চাপা পড়ে যায়। উদ্ধারকর্মীরা সকালে উদ্ধারকাজ চালানোর পর সেখানে এখনও ধ্বংসের চিহ্ন রয়ে গেছে।
