বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তানের 'হাতের পুতুল'। এবার ছেলেকেও কবজা করতে চাইছে পাকিস্তান! বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসার পর জিয়াপুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজে দেখা করার ইচ্ছাপ্রকাশ করায় এই জল্পনাই উসকে উঠল। শুক্রবার আরবের জেড্ডায় বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার প্রধানমন্ত্রীর এই আগ্রহের বিষয়টি জানান।
শুক্রবার জেড্ডায় ওআইসি-র বা অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশনের প্যালেস্টাইনের কার্যনির্বাহী সভার ফাঁকে দু'দেশের বিদেশমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হয়। কথাবার্তা বলেন পাকিস্তানের ইশাক দার ও বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান। ঢাকায় বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। ইশাক দার জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এবং তিনি ঢাকায় আসতে চান।
ঢাকায় বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন। ইশাক দার জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এবং তিনি ঢাকায় আসতে চান।
ইশাক দারের আরও বক্তব্য, নতুন সরকারের অধীনে দু'দেশের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাবে। এর পাশাপাশি তিনি প্যালেস্টাই ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রশংসা করেন। দু'জনের এই সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রীর পদে বসেছেন প্রয়াত খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান। তাঁকে নিয়ে পাকিস্তানের বাড়তি আগ্রহের নেপথ্যে আসলে অতীত। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান পুরোপুরি পাক সেনাবাহিনীর হয়ে কাজ করেছিলেন। বিএনপি-র জন্মের নেপথ্যে আসলে তৎকালীন পাকিস্তানেরই ভূমিকা। সেই অতীত টেনেই কি বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর পাকিস্তান? শাহবাজ শরিফের সাক্ষাতের ইচ্ছাপ্রকাশে সেই জল্পনাই উসকে উঠছে।
