নতুন সরকার গঠনে সদ্যই নিজেদের মতামত দিয়েছেন বাংলাদেশবাসী। একইসঙ্গে দেশের সংবিধান সংস্কারের পক্ষেও গণভোট হয়েছে। তাতে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে সংস্কারের পক্ষে। ঢাকার নির্বাচন ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪ কোটি ৮০ লক্ষ ৭৪ হাজার ৪২৯টি ভোট ইতিবাচক, শতকরা হারে যা ৬০.২৬। আর নেতিবাচক ভোট ২ কোটি ২৫ লক্ষ ৬৫ হাজার ৬২৭। অর্থাৎ ইউনুস জমানার গণভোটে সায় দিয়েছেন অধিকাংশ দেশবাসী। আর রায় অনুযায়ী, নতুন সংসদে ৮৪ দফা সংস্কার করাতে হবে। কিন্তু নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় বসে কি অন্তর্বর্তী সরকারের আয়োজিত গণভোটের রায় মেনে নেবে? এটাই বড় প্রশ্ন।
দেশের সংবিধান সংস্কারের পক্ষেও গণভোট হয়েছে বাংলাদেশে। তাতে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে সংস্কারের পক্ষে। ঢাকার নির্বাচন ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪ কোটি ৮০ লক্ষ ৭৪ হাজার ৪২৯টি ভোট ইতিবাচক, শতকরা হারে যা ৬০.২৬।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে সংরক্ষণ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। সেই আন্দোলন গণ অভ্যুত্থানের আকার নেয় ধাপে ধাপে। এই আন্দোলন থেকে উঠে আসা বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন একসঙ্গে জুলাই সনদের প্রস্তাব আনে। কী এই প্রস্তাব? দেশের বর্তমান সংবিধানের সংস্কারের দাবি এবং তার জন্য ৮৪ দফা সুপারিশ। তার মধ্যে অন্যতম প্রস্তাব ছিল, ভোটের অনুপাত হিসেবে ১০০ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে উচ্চকক্ষ তৈরি। গণভোটের রায় হ্যাঁ-র পক্ষে হলে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে এই কাজ শুরু করতে হবে। ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটের আয়োজন করতে চায়। তার অনুমোদনও দেয় বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারি গোলাপি ব্যালটে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাধারণ জনতা। তাতেই সংস্কার পক্ষে রায় দিয়েছেন অধিকাংশ।
জুলাই সনদের অন্যতম প্রস্তাব ছিল, গণভোটে রায় মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ না হলে প্রস্তাবগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এই কাজের জন্য আলাদা করে শপথ নেবেন।
জুলাই সনদের অন্যতম প্রস্তাব ছিল, গণভোটে রায় মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ না হলে প্রস্তাবগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এই কাজের জন্য আলাদা করে শপথ নেবেন। এখন বিষয় হল, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনও গণভোটের রায় মেনে নিতে বাধ্য নয় নির্বাচিত কোনও সরকার। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জিতে ক্ষমতায় আসছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন তারেক রহমান। তিনি কি গণভোটের রায় মেনে ৮৪ দফা প্রস্তাব মেনে সংবিধান সংস্কারের পথে হাঁটবেন? নাকি এই রায় উড়িয়ে দেবেন? আবার এমনটাও হতে পারে, গণভোটে প্রস্তাবগুলি থেকে কিছু কিছু বিষয় কার্যকর করবেন সংবিধান আরও উন্নত করার স্বার্থে।
