দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখা হয়েছে। হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দেড় বছরের মাথায় ফের নির্বাচিত সরকার পাচ্ছেন পদ্মাপাড়ের বাসিন্দারা। সদ্য শেষ হওয়া ভোটের ফলাফল অনুযায়ী খালেদা জিয়ার বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গড়ছে। প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন খালেদাপুত্র তারেক রহমান। অবশ্য এই ভোটে শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রায় খোলা ময়দানেই নির্বাচন জিতেছে বিএনপি। তবে তার চেয়েও বড় কথা, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই প্রথম জামাত-ই-ইসলামির উত্থান। ২৯৯ আসনের মধ্যে সত্তরের বেশি আসনে জিতেছেন জামাত প্রার্থীরা। সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসবেন তাঁরা।
আর সেখানেই সিঁদুরে মেঘ। এনিয়ে চিন্তিত হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। বৃহস্পতিবার রাতেই তিনি বার্তা দিয়েছেন, বাংলাদেশে জামাত থাকলে সন্ত্রাসবাদও থাকবে। বিএনপি বড় দল। তাদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসতে চান। তাঁর এই বার্তা থেকেই স্পষ্ট, জামাতকে আটকাতে তারেকের দিকে সাহায্যের হাত বাড়াতে আগ্রহী জয়। কিন্তু তারেক কি একই পথে হেঁটে জামাত-প্রভাব ছাঁটতে আওয়ামি লিগের 'এন্ট্রি'র পথ সহজ করে দেবে? সে এক বড় প্রশ্ন।
বাংলাদেশে ২৯৯ আসনের মধ্যে সত্তরের বেশি আসনে জিতেছেন জামাত প্রার্থীরা। সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসবেন তাঁরা। আর সেখানেই সিঁদুরে মেঘ। এনিয়ে চিন্তিত হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। বৃহস্পতিবার রাতেই তিনি বার্তা দিয়েছেন, বাংলাদেশে জামাত থাকলে সন্ত্রাসবাদও থাকবে। বিএনপি বড় দল। তাদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসতে চান। তাঁর এই বার্তা থেকেই স্পষ্ট, জামাতকে আটকাতে তারেকের দিকে সাহায্যের হাত বাড়াতে আগ্রহী জয়।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ভোট মিটতেই রাতের দিকে নির্বাচনের ফলাফল অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যায়। বিএনপি ক্রমশ ম্যাজিক ফিগারের দিকে এগোতে থাকে, আসন বাড়তে থাকে জামাতেরও। এই পরিস্থিতিতেই হাসিনাপুত্র জয় সিএনএন নিউজ-১৮ কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, "বিএনপি বড় দল। তাদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনায় বসব। আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ, তাই ময়দান ফাঁকা। তবে আমাদের দলকে মানুষ ভালোবাসে। আমরা ফিরব। বাংলাদেশে জামাত থাকলে সন্ত্রাসবাদও থাকবে।" আসলে বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম জামাত এত আসনে জয়ী হয়েছে। খালেদা জিয়া কিংবা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে জামাতকে নির্দিষ্ট আসনেই বেঁধে রেখেছিলেন। সংসদে অন্তত তাঁদের কোনও প্রভাব ছিল না। বিএনপি, আওয়ামি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও জামাতের মতো কট্টরপন্থী দলকে রুখতে পরোক্ষে হাতে হাত রেখেই লড়েছিলেন। ৩০০ আসনের মধ্যে জামাত কখনও ১৫ পেরতে পারেনি।
বিএনপির জোটসঙ্গী জামাত হলেও তার রাশ নিজের হাতে রেখেছিলেন খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে বাংলাদেশের মসনদে শেখ হাসিনা আসার পর আরও কঠোর পদক্ষেপ করেন। জামাতকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে অনেক বছর জামাত ভোটযুদ্ধের ময়দানে ছিল না। ২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলনের পর অবশ্য সামগ্রিক ছবিটা বদলে যায়। জামাতের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয় মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী প্রশাসন। উলটে আওয়ামি লিগ নিষিদ্ধ হয়ে যায়। তাই এই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি হাসিনার দল। ফলে জামাতের রাস্তাও কিছুটা প্রশস্ত হয়েছে। ৭৭ আসনে জয়ী হয়ে তারা বিরোধী আসন নিশ্চিত করেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর সেটাই সকলের মাথাব্যথা। সংসদে ঢুকে এরপর কট্টর ইসলামপন্থী দলটি কী করবে, তার অনুমান করেই শিউরে উঠছেন অনেকে।
বিএনপির জোটসঙ্গী জামাত হলেও তার রাশ নিজের হাতে রেখেছিলেন খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে বাংলাদেশের মসনদে শেখ হাসিনা আসার পর আরও কঠোর পদক্ষেপ করেন। জামাতকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে অনেক বছর জামাত ভোটযুদ্ধের ময়দানে ছিল না।
এখানেই বেশ কিছু জল্পনা উসকে উঠছে। জামাতকে সামলাতে কোন পন্থা নেবেন তারেক রহমান? তবে কি মা খালেদার পথে হেঁটে আওয়ামি লিগের সাহায্য নেবেন ছেলে? এই মুহূর্তে হাসিনা দেশের বাইরে, নয়াদিল্লির 'রাজনৈতিক আশ্রয়ে'। তাঁর পুত্র জয়ও বাইরে। যদিও বাইরে থেকেই তাঁরা সমস্ত খবরাখবর রেখেছেন। হাসিনা নিজের এই নির্বাচনকে 'প্রহসন' বলেছেন। জামাতের উত্থানে শঙ্কিত জয়ও। এই অবস্থায় জামাতকে বাগে রাখতে নয়া কৌশল প্রয়োজন তারেকের। সেক্ষেত্রে আওয়ামি লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে কি হাসিনাদের ফেরার পথ খুলে দেবেন ভাবী প্রধানমন্ত্রী? তাতেও কোনও সমস্যা হতে পারে কীনা, তাও ভাবার। সবদিকের ভারসাম্য বজায় রেখে তারেককে কিন্তু মেপে পা ফেলতে হবে।
