সরকার বদলালেও নীতি বদলাচ্ছে না ঢাকার। শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে বারবার যে দাবি জানিয়েছিল মহম্মদ ইউনুসের প্রশাসন, সেই দাবিতে অনড় থাকছে বিএনপিও। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হওয়ার পর শুক্রবার সে কথা স্পষ্ট করে দিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ। জানালেন, শেখ হাসিনাকে যাতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়, তার জন্য ভারতের উপর চাপ বাড়াবে নয়া সরকার। অর্থাৎ বিএনপি বন্ধুত্বের বার্তা দিলেও, সে পথে প্রধান কাঁটা হাসিনা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
নির্বাচনে জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, "শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। ফলে ভারত সরকারের সঙ্গে প্রত্যার্পণ চুক্তির ভিত্তিতে হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এবং এদেশে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে।'' সালাউদ্দিন আরও বলেন, "দুই দেশের বিদেশমন্ত্রকের মাধ্যমে আইনি পথেই গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।" অর্থাৎ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর যে দাবি ইউনুসের উপদেষ্টা সরকারের তরফে তোলা হয়েছিল, সেই দাবি থেকে বিএনপিও যে পিছু হঠছে না সে কথাই স্পষ্ট করে দিলেন সালাউদ্দিন।
ভারত সরকারের সঙ্গে প্রত্যার্পণ চুক্তির ভিত্তিতে হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এবং এদেশে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে তাঁকে, বার্তা বিএনপির।
উল্লেখ্য, শুক্রবার বিএনপির বিপুল জয়ের পর দলের প্রধান তথা হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘এই জয় আপনার নেতৃত্বের ওপর বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন।' ভারত ‘গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন’ অব্যাহত রাখবে বলেও বাংলাদেশের আসন্ন সরকারকে আশ্বস্ত করেন মোদি।
পালটা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরাও আমাদের দলের পক্ষ থেকে নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই দেশের সম্পর্ক এবং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।’ এই সৌজন্যের পর আশা করা হচ্ছিল গত দেড় বছরের কূটনৈতিক লড়াই পেরিয়ে ফের দুই দেশের বন্ধুত্বের পালে হাওয়া লাগবে। তবে সে পথে হাসিনা কাঁটা দুই দেশের জন্যই বড় অস্বস্তির কারণ হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দাবি করা হয়, বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে এসে ওঠেন তিনি। এরপর উপদেষ্টা সরকার গঠিত হওয়ার পর হাসিনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে বাংলাদেশের আদালত। তাঁকে বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি জানায় ইউনুস সরকার। তবে সে দাবিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি। যার ছাপ পড়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও।
