সুকুমার সরকার, ঢাকা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের কাজ। প্রকাশ করা হয়েছে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা। ইসির তথ্য থেকে দেখা গিয়েছে, সারা দেশে ৩০০টিরও বেশি নির্বাচনী এলাকায় মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। যাচাই শেষে মোট ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই নিয়েই ক্ষোভপ্রকাশ করেছে জামাত। কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে তারা।
এই তালিকা নিয়েই আপত্তি তুলেছে জামাত। দলের সাত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এই ঘটনায় রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বে থাকা জেলাশাসকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামাত-ই-ইসলামি। জামাতের অভিযোগ, ''আইনের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ নয়, এমন অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে প্রার্থীপদ বাতিল করা হয়েছে। কোনও একটি মহলের ইন্ধনে এসব করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।'' রবিবার নিজের বিবৃতিতে এই অভিযোগ করেছেন জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গাইবান্ধা-১, কুড়িগ্রাম-৩, যশোর-২, জামালপুর-৩, ঢাকা-২, কুমিল্লা-৩ এবং কক্সবাজার-২ আসনে জামাতের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। গাইবান্ধা-১ আসনের প্রার্থী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হওয়ায় জেলাশাসক মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন। তবে, অন্যান্য জেলায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে বলে দাবি। কুড়িগ্রাম-৩ ও যশোর-২ আসনে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের নথি জমা না পড়ায় জামাত প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
গোলাম পরওয়ার নিজের বিবৃতিতে বলেন, ''কোনও কোনও ক্ষেত্রে রিটার্নিং আধিকারিকরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে অনেক যোগ্য প্রার্থীর প্রার্থীপদ বাতিল করেছে। তথ্য প্রমাণ এবং কাগজপত্র জমা করার পরেও প্রার্থীপদ বাতিল করা ঠিক হয়নি। এরকম চলতে থাকলে নির্বাচন কীভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হবে তা দেশবাসীর কাছে বড় প্রশ্ন। তুচ্ছ অজুহাতে যাদের প্রার্থীপদ বাতিল করা হয়েছে, তা বৈধ ঘোষণা করার আহ্বান জানাচ্ছি।''
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র তোলেন ৩ হাজার ৪০৬ জন। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেন ২ হাজার ৫৬৮ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, যাচাইয়ের পরে মোট ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ এবং ফেনী-১ আসনের ৩টি মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়নি। প্রকাশিত এই ফলাফলে কারও আপত্তি থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন।
