বাংলাদেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি বাতিলে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘ফৌজদারি অবহেলা’ উল্লেখ করে প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস-সহ তার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের ভূমিকা তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনুস ছাড়াও প্রাক্তন সব উপদেষ্টা-সহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
আজ রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট পিটিশন দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম। রিটে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি ইউনুস-সহ উপদেষ্টা পরিষদের সব সদস্যের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছাড়াও স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক-সহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
এর আগে, হামের টিকা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে বেসরকারি খাতে দেওয়া ইস্যুতে গত ৬ এপ্রিল সংশ্লিষ্টদের নোটিশ পাঠানো হয়। ব্যারিস্টার মহম্মদ আশরাফুল ইসলাম জানান, সারা দেশে আকস্মিক বিলুপ্ত রোগ হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে ৪ শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং অগণিত শিশু ও সাধারণ নাগরিক হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তিনি আরও জানান, হামের মতো টিকাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে প্রাইভেট খাতে দেওয়ার অশুভ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকায় এই বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক তদন্তের দাবি জানিয়ে এবং মহম্মদ ইউনুস, আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খাঁন শুভ্র, নূর জাহান বেগম, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকি-সহ সব উপদেষ্টা, প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস-সচিব শফিকুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এদিকে ইউনুসের জামানায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে হামলা বিষয়টিও সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে, ইউনুসের জামানায় বাউল-সহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে হামলায় জড়িত কারা? বিশেষ করে ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর ঢাকার কেন্দ্রস্থল সচিবালয়-প্রেসক্লাবের সামনে তোপখানা রোডে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার আগে দেশি অস্ত্র হাতে কার্যালয়ে ঢুকেছিল কয়েকজন যুবক। যা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর সেদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর পরিস্থিতি অস্থির ও আতঙ্কময় হয়ে ওঠে।
সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামতেই একদল সুযোগসন্ধানী মানুষ হামলা চালায় বাঙালি সংস্কৃতিচর্চার ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছায়ানট ভবনে। এর আগে দুষ্কৃতীদের গুলিতে জখম হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে। অনুসন্ধানী সেলের সংগৃহীত বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সেদিন রাতে কয়েক শ মানুষ হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে ধানমণ্ডির ছায়ানট ভবনে। তাদের বেশির ভাগের মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা ছিল। কারো কারো মাথায় ছিল হেলমেট। বেশির ভাগের হাতে ছিল লাঠিসোঁটা-সহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র। ছায়ানটের ছয়তলা ভবনের বিভিন্ন তলায় ঢুকে ঢুকে প্রতিটি কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় তারা। একটি দল ভাঙচুরে লিপ্ত থাকে; অন্য দল লুটপাটে অংশ নেয়।
পরে ছায়ানট ভবনের সামনে আগুন ধরিয়ে দেয় দুষকৃতীরা। ভাঙচুর ও অগ্নিসন্ত্রাসে তছনছ করা হয় দেশের আরেক ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও। শুধু ছায়ানট কিংবা উদীচী নয়, শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর মহম্মদ ইউনুসের শাসনাকালে দেশের বেশির ভাগ শিল্প-সংস্কৃতির সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হয়েছে।
