সপ্তাহের শুরুতেই নতুন করে বিপাকে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জমি কেলেঙ্কারির মামলায় ফের একবার হাজতবাসের নির্দেশ আদালতের। জানা গিয়েছে পুর্বাচল নিউ টাউন প্রজেক্টে তথ্য গোপন করে নিজের পরিবারকে জমি পাইয়ে দিয়েছেন হাসিনা। সেই অভিযোগে ছয়টি মামলা হয়। এর মধ্যে দুটি মামালায় রায় দিয়েছে আদালত।
জানা গিয়েছে, পুর্বাচল নিউ টাউন প্রোজেক্টে সরকারি জমি বণ্টন সঙ্ক্রান্ত দুই মামলায় হাসিনা, তাঁর বোনঝি টিউলিপ সিদ্দিকি, আজমা সিদ্দিকি এবং বোনপো রাদওয়ান মুজিব ববিকে কারাদন্ড এবং জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার দুটি মামলায় এই রায় দিয়েছে ঢাকার বিশেষ বিচারক আদালত - ৪।
একটি মামলায় আজমিনা সিদ্দিকিকে সাত বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে, টিউলিপকে দুই বছরের এবং হাসিনাকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, তাঁদের বিরুদ্ধে জরিমানাও করা হয়েছে। অন্য মামালায় রাদওয়ান মুজিব ববিকে সেট বছরের কারাদন্ড দিয়েছে। টিউলিপকে দুই বছরের এবং শেখ হাসিনাকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরে বাড়ি, ফ্ল্যাট বা আবাসনের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ববি এবং রূপন্তী পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে ১০ কাঠা জমি পেয়েছেন। এই জমি পাওয়ার জন্য তারা 'তথ্য গোপন করেছেন' এবং 'দুর্নীতি করে আইন ভেঙেছেন'। হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজের ক্ষমতার 'অপব্যবহার' করে নিজের পরিবারের জন্য জমি বরাদ্দ করেছেন। অন্যদিকে টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজের ভাইবোনদের জন্য জমি বরাদ্দ করতে নিজের 'প্রভাব' খাটিয়েছেন।
এর আগে পুর্বাচল প্রোজেক্ট সঙ্ক্রান্ত আরও চারটি মামলায় সাজা ঘোষণা হয়েছে হাসিনার। একই সাজা পেয়েছেন টিউলিপ এবং হাসিনার বোন শেখ রেহানা। এই চার মামালায় হাসিনাকে মোট ২৬ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ এবং কন্যা পুতুলকেও পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। হাসিনার বোন রেহানাকে সাত বছর এবং তাঁর মেয়ে টিউলিপকে দুই বছরের সাজা শোনানো হয়। সব অভিযুক্তকে বাংলাদেশি মুদ্রায় এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যথায় ছয় মাসের কারাদন্ডের কথাও বলা হয়েছে।
