বাংলায় বিজেপির বিরুদ্ধে বাইরের লোক এনে ভোটার তালিকায় হেরফেরের অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। সেই একই অভিযোগ বাংলাদেশে জামাতের বিরুদ্ধে তুলল বিএনপি! সে দেশের নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখার পর বিএনপি-র প্রতিনিধি দলের বক্তব্য, বিশেষ বিশেষ কিছু এলাকায় নতুন ভোটার আনা হয়েছে। যা অস্বাভাবিক বলেই মত তারেক রহমানের দলের।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তা নজরে রেখে রবিবার দুপুরে ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সেখানে ভোটার তালিকায় হেরফেরের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর নজরুল বলেন, "ইসি বলেছে, এ রকম বেশি হয়নি। কোনও আসনে দু'-তিন হাজারের বেশি স্থানান্তরিত হয়নি। ইসির এই কথায় আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি।"
বিএনপি নেতার দাবি, প্রকৃতপক্ষে অনেক বেশি ভোটার স্থানান্তরিত হয়েছেন। যাঁরা ইসিকে এ–সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেছেন, তাঁরা সঠিক তথ্য দেননি। বিএনপি ইসির কাছে আসনভিত্তিক ভোটার স্থানান্তরের তথ্যও জানতে চেয়েছে। যদিও সরাসরি ভাবে জামাতের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেনি তারেকের দল। কিন্তু যেহেতু এই মুহুর্তে জামাতই তাদের সম্মুখসমরে, তাই অভিযোগের আঙুল তাদের দিকে বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
প্রসঙ্গত, গত বছর পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুরুর আগে বিজেপির বিরুদ্ধেই এ রকমই অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। বঙ্গের শাসকদলের দাবি ছিল, রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভায় বাইরের লোক ঢোকানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। বাইরে থেকে লোক এনেই ভোট করানোর চেষ্টা করবে তারা। বিভিন্ন বিধানসভায় ২০-৩০ হাজার করে নাম অনলাইনে ভোটার তালিকায় তোলার চেষ্টা হবে বলেও দাবি করেছিল তৃণমূল। তাদের বক্তব্য ছিল, মহারাষ্ট্র এবং দিল্লির বিধানসভা ভোটে এই কৌশলেই জিতেছে বিজেপি।
যদিও পরে এসআইআর শুরু হওয়ার পর এই সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক খানিক স্তিমিত হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের আশঙ্কা, এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হলে আবার এই অভিযোগ তুলতে পারে তৃণমূল। তা সরগরম হতে পারে বঙ্গ-রাজনীতি। এবার তার ছায়া দেখা গেল ওপার বাংলাতেও।
