আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে হতে চলেছে সাধারণ নির্বাচন। তার ঠিক তিন দিন আগে সেদেশের অন্তবর্তী সরকারের সঙ্গে শুল্কচুক্তি করতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে এমনটাই জানা যাচ্ছে। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটনে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে খবর।
গত বছর আগস্ট মাসে বাংলাদেশের উপর আরোপ করা ২০ শতাংশ পালটা শুল্কহার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও চুক্তি হয়নি। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে সেই চুক্তি স্বাক্ষর হতে চলেছে। শুল্কচুক্তি স্বাক্ষর করতে আমেরিকায় বাংলাদেশের যে প্রতিনিধিদল যাচ্ছে, তার নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্তে বদল হয়। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান।
এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুল্কচুক্তির মাধ্যমে আসলে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সেন্ট মার্টিন দ্বীপ হাতিয়ে নিয়ে ভারতকে চাপে ফেলার কৌশল করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বহু বছর ধরেই সেন্ট মার্টিনের উপর নজর রয়েছে আমেরিকার। তারা এখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করতে চায়।
বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছোট্ট দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। কৌশলগতভাবে দ্বীপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সামরিক ঘাঁটি বানালে ভারত-সহ গোট পশ্চিম এশিয়ার উপর নজরদারি চালাতে পারবে আমেরিকা। ফলে বহুদিন ধরেই সেন্ট মার্টিনের দখলদারি নিয়ে দর কষাকষি করছে আমেরিকা। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের নেপথ্য়ে অন্যতম কারণ হিসাবে এই সেন্ট মার্টিনকেই দায়ী করেন আওয়ামি লিগের নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, আমেরিকার হাতে এই দ্বীপটিকে তুলে দিতে রাজি ছিলেন না হাসিনা। এই জেরেই পিছন থেকে কলকাঠি নেড়ে বাংলাদেশকে অশান্ত করেছিল ওয়াশিংটন।
