সুকুমার সরকার, ঢাকা: রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এবার বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াল জার্মানি। উদ্বাস্তুদের ভিটে ফেরত পেতে হাসিনা সরকারকে রাজনৈতিক সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন জার্মানির বিদেশমন্ত্রী নিয়েলস অ্যানেন।
[মোদিতেই ভরসা সংসদের, তীব্র বাদানুবাদের পর আস্থা ভোটে জয় এনডিএ-র]
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে এসেছেন জার্মানির বিদেশমন্ত্রী অ্যানেন। শুক্রবার রোহিঙ্গা সমস্যায় হাসিনা সরকারের পাশে থাকার বার্তা দিলেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী মাহমুদ আলির সঙ্গে দেখা করেন অ্যানেন। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তাঁরা। পাশাপাশি ইউরোপে শরণার্থীর ঢল নিয়েও আলোচনা হয় তাঁদের মধ্যে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মজুত ছিলেন জার্মানির রাষ্ট্রদূত টমাস প্রিঞ্জ ও জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন জার্মান বিদেশমন্ত্রী। তাঁর কথায়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য অনেক কিছুই করেছেন হাসিনা।
রাখাইন প্রদেশে চলা হিংসায় দেশ ছাড়তে হয়েছে প্রায় ৭ লক্ষ রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষকে। মৌখিক সমর্থন জানালেও এগিয়ে আসেনি কোনও দেশ। বিশ্ব মানচিত্রে ব্রাত্য ওই শরণার্থীদের জায়গা দেয় শেখ হাসিনার বাংলাদেশ। কয়েক দশক থেকেই বাংলাদেশে ঘটছে শরণার্থী সমাগম। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে বাংলাদেশে রয়েছে প্রায় ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা। এতে প্রবল চাপে পড়েছে উন্নয়নশীল দেশটির অর্থনীতি। এহেন পরিস্থিতিতে ঢাকার পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত-সহ একাধিক দেশ। আর্থিক সাহায্য প্রধান করেছে বিশ্ব ব্যাংকও। তবে শীঘ্রই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। কয়েকদিন আগেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে সহযোগিতার বার্তা দিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।
উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে স্থানীয়দের মধ্য ক্ষোভ এখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, মায়ানমার ফিরতে চাইছে না রোহিঙ্গারা। ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জটিল করে তুলছে শরণার্থীরা। তাঁদের সব দাবি মেটানো সম্ভব নয়। আশির দশক থেকেই বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ শুরু হয়। কিছু রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিলেও ২০১৬-১৭ সালে ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটে।
[ঢাকায় রাজনাথ-হাসিনা বৈঠক, পাশে থাকার বার্তা ভারতের]
The post রোহিঙ্গা ইস্যুতে হাসিনা সরকারকে কুটনৈতিক সমর্থন জার্মানির appeared first on Sangbad Pratidin.
