সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ফের বাংলাদেশে উন্মত্ত জনতার নির্যাতনের বলি হল হিন্দু। ২০২৫ সালের শেষদিনে খোকন দাস নামের এক হিন্দু ব্যক্তিকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে উন্মত্ত জনতা। শনিবার মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
জানা গিয়েছে, পঞ্চাশ বছরের খোকন দাস নিজের বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় তাঁর উপর চড়াও হয় একদল কট্টরপন্থী উন্মত্ত জনতা। তারা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে খোকনকে। এরপর পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে তাঁকে। এই নিয়ে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর লাগাতার চতুর্থ আক্রমণের ঘটনা এটি। খোকন দাস প্রাণে বাঁচতে পুকুরে লাফ দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বেঁচে গেলেও অবশেষে গুরুতর আহত খোকন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে প্রাণ হারালেন শনিবারে। তাঁর স্ত্রী বলেছেন, ''আমি জানি না কারা কারা ছিল এই কাণ্ডের নেপথ্যে। আমরা ন্যায়বিচার চাই। আমার স্বামী একজন সহজ সরল মানুষ ছিলেন। তিনি কারও ক্ষতি করতেন না।''
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কালিমোহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় ২৯ বছরের যুবক অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ২৫ বছরের দীপুচন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় তাঁর শরীরে।
মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাংলাদেশে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান হিংস্রতা দেখা গিয়েছে। যা নিয়ে সরব দেশ ও বিদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলি। দীপুর হত্যার ঘটনায় পদ্মাপাড়ের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছিল ভারত। যদিও ইউনুস প্রশাসন দাবি করে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা ভালো আছে। দীপুহত্যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু পরপর খুনের ঘটনায় তা কার্যতই ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হচ্ছে।
