shono
Advertisement

ইরানের ছায়া এবার বাংলাদেশে! হিজাব না পরায় ৯ ছাত্রীর চুল কেটে নিলেন শিক্ষিকা

এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন ছাত্রীদের অভিভাবকরা।
Posted: 02:01 PM Mar 08, 2024Updated: 02:03 PM Mar 08, 2024

সুকুমার সরকার, ঢাকা: ইরানের হিজাব বিতর্কের ছায়া এবার বাংলাদেশে। হিজাব না পরার কারণে ৯ ছাত্রীর চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠল এক স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। ক্লাস চলাকালীনই এই কাণ্ড ঘটান অভিযুক্ত শিক্ষিকা। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন ওই ছাত্রীদের অভিভাবকরা।  

Advertisement

গত বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে, ঢাকার কাছে বিক্রমপুরে (মুন্সীগঞ্জ) সৈয়দপুর আবদুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজে। জানা গিয়েছে, ক্লাস চলাকালীন শিক্ষিকা রুনিয়া সরকার কাঁচি দিয়ে ৭ম শ্রেণির ৯ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেন। ওই ছাত্রীদের অপরাধ ছিল তারা নাকি হিজাব পরেনি। অভিযুক্ত রুনিয়া ওই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মাইসা জাহান, তানজিলা আক্তার, আনীল আক্তার, তাসফিয়া, মাহাদিয়া, সুমাইয়া ও ইফা হিজাব পরে না আসার কারণে তাদের চুল কেটে নেওয়া হয় বলে জানায় তারা। এই ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

[আরও পড়ুন: বাজারে আগুন! মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ‘জনতার দরবারে’ বিএনপি]

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অভিভাবক জানিয়েছেন, “হিজাব না পরার কারণে আমার মেয়ের চুল কেটে দিয়েছে।” সৈয়দপুর আবদুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিয়া ফরিদ আহমেদ বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা কথা বলেছি। মেয়েদের সামান্য চুল কাটা হয়েছে তবে হিজাব না পরার কারণে নয়। মেয়েরা একটু উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছিল। এই কারণে তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। এই বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা আধিকারিক মহম্মদ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “ঘটনাটি সত্য। চুল কাটার বিষয়টি ওই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিয়া ফরিদ আহমেদ আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন। আমি অভিযুক্ত শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম তবে মোবাইল বন্ধ পাচ্ছি। তাঁর বিরুদ্ধে শোকজ-সহ সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই বিশেষ দিনের দুদিন আগে ঘটা এই ঘটনায় নিন্দা শুরু হয়েছে নানা মহলে। 

[আরও পড়ুন: মুসলিম দেশগুলোতে অভিন্ন মুদ্রা চালুর আহ্বান হাসিনার, সন্ত্রাস নির্মূলেও জোর]

এদিকে, শুক্রবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দেশের নানা জায়গায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালন করা হচ্ছে। এদিন একটি আলোচনা সভা ও জয়িতা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পাঁচ জয়িতাকে সম্মানিত করেন তিনি। এবার জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পাঁচ জয়িতা হলেন- ময়মনসিংহের আনার কলি, রাজশাহীর কল্যাণী মিনজি, সিলেটের চা শ্রমিক কমলী রবিদাশ, বরগুনার জাহানারা বেগম ও খুলনার পাখি দত্ত হিজড়া। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জয়িতাদের সাফল্য তুলে ধরে বলা হয়, ময়মনসিংহের আনার কলি একজন সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী। ওরাও সম্প্রদায়ের জয়িতা কল্যাণী মিনজি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান নিয়ে লেখাপড়া করেন। বর্তমানে তিনি সোনাদিঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement