সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) ভোটের মুখে আবার সংঘর্ষে জড়াল দুই যুযুধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামাত এবং বিএনপি। শুক্রবার রাতে ভোলার লালমোহন উপজেলার রায়চাঁদবাজারে দুই রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের এই সংঘর্ষে দু'পক্ষের অন্তত ৩০ জন জখম হয়েছেন। তাঁদের জেলা সদর হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়েছে।
বিএনপি-র অভিযোগ, জামাতকে ভোট দিলে বেহেশত (জন্নত) পাওয়া যাবে’— এই মর্মে ভোটের প্রচার চালাচ্ছিলেন জামাতের নেতারা। তা নিয়ে বিএনপি-র নেতা-কর্মীরা আপত্তি তোলায় দু'পক্ষের প্রথমে বচসা বাধে। পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, এক পক্ষ অপর পক্ষকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেলও ছোড়ে। তাতেই জখম হন অনেকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান নৌবাহিনীর সদস্যেরা। অভিযোগ, সেই সময় তাঁদের উপরেও হামলা হয়।
যদিও জামাতের দাবি, রায়চাঁদবাজার এলাকায় জামাতের মহিলা কর্মীদের একটি বৈঠক ছিল। সেই বৈঠক সেরে ফেরার পথে জামাতের এক নেত্রীকে হেনস্তা করেছেন বিএনপি-র এক কর্মী। তাঁকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজও করা হয়েছে। পরে ওই নেত্রীর স্বামী প্রতিবাদ করতে গেলে বচসা বাধে। তাঁকে মারধরও করা হয়। পরে বিএনপি-র এক নেতার মধ্যস্থতায় দু'পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। ওই ঘটনার পর রাতের দিকে আবার অশান্তি ছড়ায় এলাকায়। বিএনপি-র ৩০-৪০ জন কর্মী জামাতের কার্যালয়ে হামলা চালান। তাতে জামাতের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। নৌবাহিনীর সদস্যেদ উপর বিএনপি-ই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ জামাতের। বিএনপি অবশ্য জামাতের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
লালমোহন থানার ওসি মহম্মদ অলিউল ইসলাম জানান, জামাত-বিএনপির মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষ বাধে। জামাতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের যে অভিযোদ উঠেছে, তার অবশ্য সত্যাসত্য প্রমাণ মেলেনি। সংঘর্ষের ঘটনায় দু'পক্ষের কেউই এখনও থানায় অভিযোগ জমা করেনি। পুলিশও এখনও কাউকে আটকে করেনি বলেই জানিয়েছেন ওসি।
