shono
Advertisement

জেলমুক্ত বাংলাদেশের ‘জল্লাদ’, ২৬ জনকে ফাঁসি দিয়ে প্রশ্ন, ‘খাব কী?’

বঙ্গবন্ধু হত্যায় দোষীদেরও ফাঁসি দিয়েছেন তিনি।
Posted: 01:57 PM Jun 19, 2023Updated: 01:57 PM Jun 19, 2023

সুকুমার সরকার, ঢাকা: বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ছয় দোষী এবং ছয় যুদ্ধাপরাধী-সহ ২৬ জনকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়েছেন শাহজাহান ভূঁইয়া। ‘জল্লাদ শাহজাহান’ নামেই তাঁকে চেনে সবাই। দীর্ঘ ৩২ বছর কারাভোগের পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।

Advertisement

বাংলাদেশে ‘জল্লাদ’ শাহজাহান ভূঁইয়ার নাম প্রায় সবাই জানে। হত্যা ও অস্ত্র মামলায় তাঁর ৪২ বছরের সাজা হয়েছিল। ফাঁসি কার্যকর ও অন্যান্য কারণে তাঁর সাজার মেয়াদ কমিয়ে করা হয় ৩২ বছর। রবিবার মেয়াদ শেষে কারাগার থেকে বেরিয়ে অঝোরে কেঁদে সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, “আমি এখন কী করব, কোথায় যাব, কী খাব?”

এদিন কেরানিগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান শাহজাহান। দেশের বিভিন্ন কারাগারে ২৬ জনের ফাঁসি কার্যকর করেছেন এই জল্লাদ। কারাভোগ শেষে বের হয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান বলেন, “আমার ঘর-বাড়ি নেই। কারাগারে এক আসামী ছিলেন, যাঁর বাড়ি রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরায়। আপাতত সেখানেই থাকব।” তিনি আরও বলেন, “এত বছর জেল খাটার পর আমার কিছুই নেই। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার অনুরোধ, আমাকে যেন বাড়িঘর ও একটি কর্মসংস্থান করে দেন।”

[আরও পড়ুন: আগামী মাস থেকেই বাড়ছে ভারত-বাংলাদেশের ট্রেনের ভাড়া, বিপাকে আমজনতা]

অবিবাহিত শাহজাহান ঢাকার অদূরে নরসিংদী জেলার পলাশ থানার ইছাখালী গ্রামের বাসিন্দা। মুক্তির আগ পর্যন্ত তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান জল্লাদ ছিলেন। কোনও আসামীকে ফাঁসির দড়িতে ঝোলাতে তাঁরই ডাক পড়ত। কারা সূত্রে জানা গিয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছ’জন ঘাতক, ছ’জন যুদ্ধাপরাধী, কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদার, জঙ্গি নেতা বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানী, শারমীন রীমা হত্যার আসামি খুকু মনির, ডেইজি হত্যা মামলার আসামি হাসান-সহ বাংলাদেশের আলোচিত ২৬ জনের ফাঁসি কার্যকর করেছেন শাহজাহান।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে শাহজাহানকে গ্রেপ্তারের পর মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারে রাখা হয়। এরপর তাঁকে দেশের বিভিন্ন জেলে রাখা হয়। দুই মামলায় শাহজাহানের মোট সাজা হয়েছিল ৪২ বছর। এ সময় দেশের বিভিন্ন কারাগারে ২৬ জনের ফাঁসি কার্যকর করেছেন তিনি। হত্যা ও অস্ত্র মামলায় তার ৪২ বছরের সাজা হয়েছিল। ফাঁসি কার্যকর ও অন্যান্য কারণে তার সাজার মেয়াদ কমিয়ে করা হয় ৩২ বছর।

১৯৯২ সালের ৮ নভেম্বর ডাকাতির জন্য ১২ বছর এবং ১৯৯৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর অপর একটি মামলায় ডাকাতি ও হত্যার জন্য ৩০ বছরের কারাদণ্ড হয় তাঁর। এ ছাড়া উভয় রায়ে তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড হয়। অস্ত্র ও হত্যা মামলায় ৪২ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত শাহজাহানের সাজা কমে ৩২ বছর হয়।

[আরও পড়ুন: ৬ বছরে খুন ১৬১! বাংলাদেশের মাথাব্যথা বাড়াচ্ছে ‘লাগামহীন’ রোহিঙ্গারা]

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement