সুকুমার সরকার, ঢাকা: পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের জেলা রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মার চর আলাতুলি গ্রামে জেএমবি জঙ্গি ডেরায় র্যাবের সঙ্গে গুলিযুদ্ধ শেষে মিলল ৩ জঙ্গির লাশ। এগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে বাড়ির ভেতরে পড়ে ছিল। আজ, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে অভিযান শেষ হয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে ১২ সদস্যের বম্ব ডিসপোজাল টিম সেখানে গিয়ে কাজ করার পর ওই অভিযান শেষ হয়। রাজশাহী র্যাব-৫ এর মিডিয়া পরিচালক মুফতি মাহমুদ জানান, র্যাব সদস্যরা রাত থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখে। এরপর জঙ্গিদের বারবার আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু বাড়ির ভেতর থেকে দুই দফায় বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। তারা জেএমবির সক্রিয় সদস্য। রাজশাহীতে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এর আগে ঢাকার মিরপুর জঙ্গি আস্তানা থেকে ধৃতরা জানায়- তাদের একটি গ্রুপ ভারত সীমান্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজ করছে। সেখানে বিস্ফোরক তৈরির কাজও শেখানো হচ্ছে। র্যাব সদস্যরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি শুরু করে। এরই জেরে এই অভিযান চালানো হয়। কিছুদিন বাথানবাড়িতে কয়েকজন যুবককে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি পিস্তল, সাতটি আইইডি (হাতে তৈরি গ্রেনেড) এবং বেশ কিছু পাওয়ার জেল, বিস্ফোরক দ্রব্য ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। বাড়ির ভিতরে তিন থেকে চারটি বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর খড়ের তৈরি বাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। র্যাব ওই বাড়ির মালিক রাশিকুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী নাজমা বেগম ও শ্বশুর মহম্মদ খুরশেদকে আটক করেছে।
[জঙ্গি তকমা তুলে নিতে রাষ্ট্রসংঘের দ্বারস্থ হাফিজ সইদ]
র্যাব জানিয়েছে, বেশ কয়েক দিন আগে দুজন পাখি দেখার কথা বলে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের বাড়িটি ভাড়া নেয়। বাড়িওয়ালা রাজশাহীর গোদাগাড়িতে থাকেন। চরের ওই বাড়িটি তারা গরু-মহিষ রাখার কাজে ব্যবহার করত। র্যাব বলছে, ‘জঙ্গি আস্তানাটির’ আশপাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কোনও বাড়িঘর নেই। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটকেরা হচ্ছে- ওই বাথানবাড়ির মালিক রাশিকুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৫), তার শ্বশুর খুরশেদ (৬০) ও শাশুড়ি মনিরা বেগম। মুফতি মাহমুদ ব্রিফিংয়ে বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ভিত্তিতে বাড়িটি ঘেরাও করে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। এসময় জঙ্গিরা বাড়ির ভেতর থেকে র্যাবকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ও গুলি ছোড়ে। এ সময় র্যাবও পালটা গুলি চালায়। এরপর বিস্ফোরণে বাড়িটিতে আগুন লেগে যায়। ধারণা করা হচ্ছে বিস্ফোরণের সময় জেএমবি সদস্যরা নিহত হয়েছেন। অভিযানে দুইটি শক্তিশালী বোমা, ২টি বিদেশি পিস্তল, পাওয়ার জেল, ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় আলাদা অভিযান চালিয়ে ১১টি পিস্তল, ২৮ রাউন্ড গুলি ও ৬টি ম্যাগজিন উদ্ধার করেছে বিজিবি ও র্যাব। এসময় আশরাফুল আলম আশিক (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আবদুল মান্নান ও তার ছেলে সাদিকুল এ সময় পালিয়ে যান। ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৯টি পিস্তল, ১৫ রাউন্ড গুলি ও ২টি ম্যাগজিন জব্দ করা হয়। অপরদিকে, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্প সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় জেলার শিবগঞ্জের রানীনগর গোপালপুরঘাট ব্রিজের পাশে অভিযান চালিয়ে ২টি পিস্তল, ১৩ রাউন্ড গুলি-সহ আশরাফুল নামে এক অস্ত্র ব্যবসায়ীকে আটক করে।
The post বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব়্যাবের সঙ্গে গুলিযুদ্ধে নিকেশ ৩ জঙ্গি appeared first on Sangbad Pratidin.
