সুকুমার সরকার, ঢাকা: মায়ানমারের টালবাহানার মধ্যে এবার শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারাই। একের পর এক দাবি তুলে উদ্বাস্তুদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া আরও জটিল করে তুলছেন তাঁরা। এই ডামাডোলে বিপাকে স্থানীয় বাসিন্দারা।
[পকেটে আধার কার্ড ছাড়াই এবার রেল সফর, মিলবে ডিজি-লকারের পরিষেবা]
প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রায় ১০ লক্ষ শরণার্থীর বোঝা বহন করা ক্রমশই কঠিন হয়ে উঠছে। শরণার্থীদের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ ও স্থানীয় শাসন ব্যবস্থা। ফলের ক্ষোভ বাড়ছে এলাকার বাসিন্দাদের। একটি রিপোর্টের মতে শরণার্থী শিবিরে প্রতিদিন জ্বালানি হিসেবে ২ হাজার ২৫০ টন কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এসব কাঠ সংগ্রহ করা হচ্ছে কক্সবাজারের বিভিন্ন জঙ্গল থেকে। এভাবে চললে ২০১৯ সালের মধ্যে জেলাটির উখিয়া উপজেলার বনাঞ্চল সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অভিযোগ, সম্পদ ধ্বংস ছাড়াও অপরাধে জড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা। ফলে প্রভাব পড়ছে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায়। এদিকে একর পর এক দাবি তুলছেন রোহিঙ্গা নেতারা। ফলে আরও জটিল হচ্ছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। রোহিঙ্গা নেতাদের দাবি, নাগরিকত্ব ছাড়া তাঁরা মায়ানমার ফেরত যাবে না। একই সঙ্গে সে দেশে তাঁদের সুরক্ষা ও ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষিত করতে হবে। বাংলাদেশ সফররত রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের কাছেও এনিয়ে দরবার করেছে তাঁরা।
এদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, মায়ানমার ফিরতে চাইছে না রোহিঙ্গারা। ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জটিল করে তুলছে শরণার্থীরা। তাঁদের সব দাবি মেটানো সম্ভব নয়। ফলে বাংলাদেশ ছেড়ে কোনওদিন যাবে না রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গা প্রতিরোধ ও প্রত্যাবাসন কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুল হক চৌধুরি জানান, রোজ রোহিঙ্গারা নতুন নতুন শর্ত দিচ্ছে। তাঁদের উদ্দেশ্য সন্দেহজনক। আশির দশক থেকেই বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ শুরু হয়। কিছু রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিলেও ২০১৬-১৭ সালে ব্যাপকহারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটে।
[পরমাণু বোমা থেকে বাঁচতে তৈরি গোপন বাঙ্কার, ঠিকানা লুকোতে কারিগরকেই খুন]
The post প্রত্যাবাসনে বাধা রোহিঙ্গা নেতারাই, ডামাডোলে বিপাকে স্থানীয়রা appeared first on Sangbad Pratidin.
