সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশে সদ্য খুন হওয়া হিন্দু বাসিন্দা খোকন দাসের হত্যাকারীরা অবশেষে গ্রেপ্তার হল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে মূল অভিযুক্ত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল র্যাব। সূত্রের খবর, মৃত্যুর আগে এদের নাম বলে গিয়েছিলেন শরিয়তপুরের মৃত ওই বাসিন্দা খোকন দাস। তাঁর মৃত্যুকালীন জবানবন্দির ভিত্তিতে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম সোহাগ, রাব্বি ও পলাশ। তাদের বিরুদ্ধে হত্যার মামলা রুজু হয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর ওষুধের দোকান থেকে ফেরার সময়ে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় খোকন দাসের উপর। তাঁকে মারধরের পর পেট্রল ঢেলে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। দিন তিনেক হাসপাতালে চিকিৎসার পর শনিবার মৃত্যু হয় তাঁর। তাতে ইউনুসের বাংলাদেশে হিন্দুহত্যার তালিকা আরও দীর্ঘ হয়।
খোকন দাস হত্যাকাণ্ডে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারির পর বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে পুলিশ। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন- ৮ ও ১৪ টিমের যৌথ অপারেশন সফল হয়েছে কমান্ডার এএসপি শাহজাহানের নেতৃত্বে। এনিয়ে শরিয়তপুরের পুলিশ সুপার রৌনক জাহান জানিয়েছেন, ৫০ বছর বয়সি খোকন দাস মৃত্যুশয্যায় অভিযুক্তদের নাম বলে গিয়েছিলেন। তার ভিত্তিতে তদন্তে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
গত ৩১ ডিসেম্বর ঠিক কী ঘটেছিল শরিয়তপুরের ব্যবসায়ী খোকন দাসের সঙ্গে, তা বিশদে জানিয়েছেন এসপি। তাঁর বক্তব্য, কেহেরভাঙা বাজারে খোকনবাবুর ওষুধের দোকান। ওইদিন রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ তিনি দোকান বন্ধ করে তিলোইয়ের বাড়িতে ফেরার সময় আক্রান্ত হন। তিন থেকে চারজন দুষ্কৃতী তাঁকে ঘিরে ধরে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। একটা সময় পর যখন আততায়ীরা বুঝতে পারে যে খোকনবাবু তাদের চিনতে পেরেছেন, তখনই চরম পদক্ষেপ নেয়। পেট্রল ঢেলে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে। ওই তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যার মামলা দায়ের হয়েছে। কী কারণে খোকন দাসকে এভাবে হামলা এবং হত্যা - ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তা জানার চেষ্টায় মরিয়া তদন্তকারীরা।
