shono
Advertisement
Bangladesh

অরাজক পদ্মাপাড়ে ডুবছে অর্থনীতি! বাঁচতে আমেরিকামুখো বাংলাদেশিরা, কিন্তু ভিসায় তালা ট্রাম্পের

মার্কিন রিপোর্ট বলছে, দুই দশকে মার্কিন মুলুকে বাংলাদেশি জনসংখ্যা বেড়েছে ৫৬৯ শতাংশ।
Published By: Kishore GhoshPosted: 02:50 PM Jan 15, 2026Updated: 04:08 PM Jan 15, 2026

ইউনুসের বাংলাদেশে জন্য বড় ধাক্কা। সোমবার ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে আমেরিকা, তার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশও। বুধবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় মার্কিন বিদেশ দপ্তর। ২১ জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাসিনা পরবর্তী সময়ে কট্টরপন্থীদের উত্থান, সেই সঙ্গে দেশের অরাজক পরিস্থিতি বাংলাদেশিদের মার্কিন মুলুকে 'ব্রাত্য়' হওয়ার অন্যতম কারণ।

Advertisement

মার্কিন বিদেশ দপ্তর জানিয়েছে, অভিবাসী ভিসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে গত নভেম্বর মাসে জারি হওয়া একটি নির্দেশিকার ভিত্তিতে। যেখানে বলা হয়েছিল, যাঁদের আমেরিকায় গিয়ে সরকারি ভাতা বা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের উপর নির্ভর করার আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়া আরও কড়াভাবে খতিয়ে দেখা হবে। এই নীতির আওতাতেই আপাতত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়ায় রয়েছে পাকিস্তান, আফগানিস্তানের মতো দেশও।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণবিক্ষোভে দেশ ছাড়েন হাসিনা। এর পর সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলেও পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। একদিকে মৌলবাদীদের উত্থানে পদ্মাপাড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এইসঙ্গে ভেঙে পড়েছে অর্থনীতি। ক'দিন আগেই বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝার কথা স্বীকার করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছরের শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ১০,৪৪৮ কোটি ডলার। পাঁচ বছর আগে, ২০২০ সালে যা ছিল প্রায় ৭,৩৫৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

২১ জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কট্টরপন্থী উত্থান এবং দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত আমেরিকার অভিবাসী ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত। ক্রমশ পাকিস্তান, আফগানিস্তানের নাগরিকদের মতোই 'বিপজ্জনক' তথা 'সন্দেহভাজন' তালিকায় বাংলাদেশি নাগরিকরাও। অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে বহু বছর ধরেই বাংলাদেশি অদক্ষ কর্মীরা ইউরোপ ও আমেরিকায় ভাগ্যন্বেষণে পাড়ী দেন। স্বভাবতই আর্থিক ভাবে দুর্বল ওই মানুষেরা আমেরিকা সরকারের জনকল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করেন। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, এর ফলে বঞ্চিত হচ্ছেন স্বদেশি নাগরিকার। অতএব, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশের মতো দেশগুলির নাগরিক স্থায়ী ভিসা দিতে রাজি নয় তারা। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে, আমেরিকায় গিয়ে সরকারি সহায়তা নিতে পারেন, এমন ব্যক্তিদের যাওয়া ঠেকাতেই এই দেশগুলির নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করা হয়েছে।

৬ জানুয়ারি ২০২৬-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন মুলুকে থাকা বাংলাদেশিদের ৫৪.৮ শতাংশ পরিবার সরকারি সুবিধা নেন। আমেরিকার অভিবাসীদের মধ্যে কোন কোন দেশের নাগরিকেরা বেশি সরকারি সাহায্য (ওয়েলফেয়ার) নিচ্ছেন, ৪ জানুয়ারি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তার তালিকা প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই তালিকা অনুযায়ী উপরের দিকে ১২০টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৯তম। এই তালিকায় ভারতের নাম নেই।

স্বভাবতই আর্থিক ভাবে দুর্বল ওই মানুষেরা আমেরিকা সরকারের জনকল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই দশকে আমেরিকায় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অভাবনীয় হারে বেড়েছে। ২০০০ সালে যেখানে বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল মাত্র ৪০ হাজার, ২০২৩ সালে তা বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার। অর্থাৎ দুই দশকে জনসংখ্যা বেড়েছে ৫৬৯ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, গত দেড় বছরের হিসাব মেলালে দেখা যাবে, মার্কিন প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা আরও বড় লাফ দিয়েছে। নেপথ্য দেশটির ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং করুণ অর্থনীতি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement