দেবব্রত মণ্ডল, বারুইপুর: নাম ছিল না ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়! স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কে ছিলেন জয়নগরের বাসিন্দা নাজিতুল মোল্লা। এরমধ্যেই ডাক আসে শুনানির জন্য। হাসপাতাল থেকে ফিরেই নাকে অক্সিজেন নল লাগিয়ে শুনানিতে হাজিরা দেন ৬৮ বছরের নাজিতুল। এরপর বাড়ি ফিরেই আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। রাতারাতি ভর্তি করা হয় চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে। শনিবার সেখানেই মৃত্যু হয় নাজিতুল মোল্লার। পরিবারের দাবি, নাম না থাকায় আতঙ্কে ছিলেন। এর মধ্যেই শুনানির ডাক আসায় দুশ্চিন্তায় আরও বাড়ে। এই সমস্ত কারণে শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে মৃত্যু বলে দাবি পরিবারের। ইতিমধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। ঘটনার খবর পেয়েই পরিবারের পাশে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের গড়দেওয়ানি গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর ঠাকুরেচক এলাকার বাসিন্দা নাজিতুল মোল্লা। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ ডিসেম্বর থেকে অসুস্থ ছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থা এতটাই অবনতি হয় রাতারাতি কলকাতার চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাঁকে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীনই এসআইআরে শুনানির নোটিস যায় জয়নগরের এই বৃদ্ধার বাড়িতে। আর সেই কারণে গত ২৮ ডিসেম্বর নাজিতুলকে ছাড়া হয় হাসপাতাল থেকে। নাকে অক্সিজেনের নল লাগানো অবস্থাতেই তাঁকে বাড়ি ফেরানো হয়। এরপর ওই অসুস্থ শরীর নিয়ে নাকে অক্সিজেনের নল লাগানো অবস্থাতেই গত ৩১ ডিসেম্বর শুনানিতে হাজির হন নাজিতুল।
কিন্তু বাড়ি ফিরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ফের চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় নাজিতুল মোল্লাকে। পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। হাসপাতালে থাকাকালীনই এসআইআরে শুনানির জন্য ডাক আসে। ওই শরীরে অক্সিজেনের নল লাগানো অবস্থাতেই শুনানিতে হাজির হন। এহেন হয়রানির কারণেই এই মৃত্যু বলে দাবি ওই সদস্যের। কার্যত একই দাবি স্থানীয় মানুষজনের। স্থানীয়দের কথায়, ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকায় নাজিতুল দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। মানসিক চাপ থেকেই এই ঘটনা।
