দেবব্রত মণ্ডল, বারুইপুর: মহিলা হোমগার্ডের মৃত্যুতে এবার গ্রেপ্তার ক্যানিং থানার সাব-ইন্সপেক্টর সায়ন ভট্টাচার্য। তাঁর বিরুদ্ধে মৃতার পরিবার খুনের অভিযোগ দায়ের করেছিল। তার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযুক্ত এসআই-এর খোঁজ পায়নি। শেষ পর্যন্ত গোপন সূত্র খবর পেয়ে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে হানা দিয়ে বৃহস্পতিবার সায়ন ভট্টাচার্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। আলিপুর আদালতে পেশ করা হলে সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
গত ২৭ ডিসেম্বর ক্যানিং থানার পিছনে পুলিশ আবাসন থেকে থানার মহিলা হোমগার্ড, বছর বাইশের গুলজান পারভীন মোল্লার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। মৃতার পরিবারের লোকজন ক্যানিং থানার সাব-ইন্সপেক্টর সায়ন ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের স্বার্থে বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ ছয় সদস্যের একটি সিট গঠন করে তদন্তে নামে। সিটের প্রধান বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) রুপান্তর সেনগুপ্ত।
পুলিশ তদন্ত শুরু করে অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করলেও অভিযুক্ত এসআইয়ের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর ফোন ছিল বন্ধ। পুলিশ হন্যে হয়ে সায়ন ভট্টাচার্যকে খুঁজছিল। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ক্যানিং থানার পুলিশের একটি টিম হানা দেয় উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর এলাকায়। সেখান থেকে বৃহষ্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টরকে। সায়ন ভট্টাচার্যের গ্রেপ্তারিতে মহিলা হোমগার্ড খুনের তদন্ত কিছুটা এগোল বলে মনে করছে সব মহল। সায়ন ভট্টাচার্য মহিলা হোমগার্ডের হত্যাকাণ্ডে জড়িত নাকি তাঁকে পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে, সে বিষয়ে সঠিক সত্যও উদ্ঘাটন হবে বলে আশাবাদী রাজনৈতিক ও পুলিশ মহল।
