সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বছরের প্রথমদিন সকাল থেকেই বাংলায় উৎসবের আমেজ! তবে বাঙালির কাছে বছরের প্রথমদিন মানেই কল্পতরু উৎসব। পুজোপাঠ, প্রার্থনায় নতুনকে বরণ করে নেওয়ার পালা। বৃহস্পতিবার কাকভোর থেকেই দক্ষিণেশ্বর, কাশীপুর উদ্যানবাটি, কামারপুকুরে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ভক্তদের লম্বা লাইন ছিল তারাপীঠেও। বছরের প্রথম দিন উপলক্ষে এদিন তারাপীঠ মন্দির চত্বরকে আলোর মালায় সাজিয়ে তোলা হয়। বিশেষ পুজোর আয়োজনও করা হয়। বিশেষ ভোগ দেওয়া হয় মা তারাকে। অন্যদিকে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কড়া নিরাপত্তার মোড়কে মুড়ে ফেলা হয় মন্দির চত্বরকেও।
এদিন ভোরবেলায় খুলে দেওয়া হয় মায়ের গর্ভগৃহ। তার আগে বিশেষ দিনে প্রথমে মা'কে স্নান করানো হয়। করা হয় মঙ্গল আরতি। যদিও বছরের প্রথমদিনে তারা মা'কে দর্শন করতে ভোররাত থেকেই ভক্তরা ফুল ও প্রসাদের ডালা নিয়ে লাইনে দাঁড়ান। এই বছর তারাপীঠ মন্দিরে অসুস্থ এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এক বিশেষ ব্যবস্থা করা হয় মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে। কোনও বয়স্ক বা অসুস্থ ব্যক্তি মা তারার পুজো দিতে এলে তাঁদের লাইনে দাঁড় না করিয়ে সরাসরি মায়ের গর্ভগৃহে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এরপর দুপুরে মা তারাকে বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়। ভোগের মধ্যে ছিল ভাত, ডাল, সবজি, পোলাও, শোলমাছ পোড়া, পাঁচ রকম ভাজা, পাঁচ রকম মিষ্টি এবং পায়েশ। এছাড়াও বলির পাঁঠার মাংসও মা'কে নিবেদন করা হয়। এমনকী সন্ধ্যারতিতেও ছিল বিশেষ আয়োজন। তারাপীঠ মন্দিরের পাশেই রয়েছে মহাশ্মশান। সেখানেও এদিন সকাল থেকে ভক্তের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
বছরের প্রথম দিনে তারাপীঠ মন্দিরের ভক্ত সমাগম ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি। তাই যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তারাপীঠ মন্দির কমিটি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। মোতায়েন করা হয় বাড়তি পুলিশকর্মীকে।
