দেবব্রত মণ্ডল ও ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বছরের গোড়া থেকেই প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় দু'বছর তাঁর মেগা জনসভা নিজের সংসদীয় কেন্দ্রের জেলাজুড়ে। শুক্রবার বারুইপুরে অভিষেকের জনসভা যে জনপ্লাবনে রূপ নেবে, তা বুঝেই আগাম একগুচ্ছ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে। তবে বারুইপুরের সভায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় হতে চলেছে মঞ্চসজ্জা। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে ব্রিগেডে যেভাবে র্যাম্পের আদলে মঞ্চ তৈরি হয়েছিল, এখানেও তার পুনরাবৃত্তি হতে চলছে। ক্রস র্যাম্পের মতো তৈরি হয়েছে মঞ্চ। এর ফলে একেবারে জনতার মাঝে উপস্থিত হয়ে বক্তৃতা দিতে পারবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুর ২টো থেকে শুরু হবে জনসভা।
সাগর সংঘের মাঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভামঞ্চ। নিজস্ব ছবি।
বারুইপুরের সাগর সংঘের মাঠ জুড়ে তৈরি হওয়া মঞ্চ অনেকটা বিগ্রেডের আদলে। মাঠের দক্ষিণ দিকে মূল মঞ্চের সঙ্গে দু'পাশে তৈরি করা হয়েছে জনপ্রতিনিধিদের জন্য আরও দুটি জায়গা। তার মধ্য মূল মঞ্চের সঙ্গে ২০০ ফুট বাই ১৪০ ফুটের র্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এই র্যাম্পে ঘুরেই বক্তব্য রাখবেন। যদিও তাঁর বক্তব্য রাখার সময় র্যাম্পের দু'ধারে মোতায়েন করা থাকবে সশস্ত্র পুলিশ। মূল মঞ্চের সঙ্গে বানানো হয়েছে আরও দুটি মঞ্চ। যার পিছনে থাকছে প্রায় ৪০ ফুটের স্ক্রিনে দেখার ব্যবস্থা। জনপ্রতিনিধিরা বসবেন এই তিনটি মঞ্চে ভাগ করে। ৩১ জন বিধায়ক একটি দিকে বসবেন। অন্যদিকে, জেলা পরিষদ সদস্য পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা বসবেন অন্য একটি মঞ্চে। মঞ্চ দু'প্রান্তে দুটি আলাদা পোডিয়াম রাখা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি চলে আসবেন একদম মঞ্চের পিছনে। জনপ্রতিনিধিদের বসার জন্য সেখানে একটি আলাদা ঘরও তৈরি করা হয়েছে।
মূল মঞ্চের সঙ্গে ২০০ ফুট বাই ১৪০ ফুটের র্যাম্প তৈরি হয়েছে। নিজস্ব ছবি।
শুধু তাই নয়, বৈদ্যুতিন মাধ্যম ও সোশাল মিডিয়ার সাংবাদিকদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই জনসভায় জেলার দুই সাংগাঠনিক এলাকা থেকেই দলীয় কর্মী-সমর্থকরা আসবেন এই মেগা জনসভায়। শুধু তাই সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই জনসভা ঘিরে উন্মাদনা রয়েছে। রেকর্ড জমায়েতের সম্ভাবনা। জেলা নেতৃত্ব জানিয়েছে, এবার বুথস্তর থেকে কর্মীদের এই সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁদের সুবিধার জন্য চারিদিকে বড় বড় এলইডি স্ক্রিন লাগানো হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, সাংসদ এই সভা থেকে আগামী নির্বাচনে দলের লড়াইয়ের রূপরেখা ঠিক করে দেবেন।
