দেব গোস্বামী, বোলপুর: ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ শান্তিনিকেতনের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বভারতীতে নন-একাডেমিক ও প্রশাসনিক স্থায়ী পদে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ। ইতিমধ্যেই একাধিক চাকরিপ্রার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে মেল মারফত অভিযোগ জানিয়েছেন। চাকুরী প্রার্থীদের অভিযোগ, নন একাডেমিক ও প্রশাসনিক স্থায়ী পদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে চূড়ান্ত মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। নিয়ম না মেনে ব্যক্তিগত মেলে নিয়োগপত্র পাঠানো হয়েছে। কর্মসচিব, অধ্যায়ন পরিচালক, পরিচালক গ্রন্থন বিভাগসহ বেশ কয়েকটি নন একাডেমিক পদের নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য ওয়েবসাইটে থাকলেও, উপ-কর্মসচিব ও সহকারি কর্ম সচিব সাধারণ পদে নিয়োগের মেধা তালিকার কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
চাকরিপ্রার্থীদের আরও দাবি, শিক্ষা মন্ত্রকের নির্দেশ অনুসারে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি দ্বারা লিখিত পরীক্ষা নিলেও তাঁর প্রাথমিক ফলাফল এজেন্সি ওয়েবসাইটে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ করেনি। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ তাঁর ওয়েবসাইটে ২৭ অক্টোবর ২০২৫ পেশাগত চূড়ান্ত মেধাতালিকা কীভাবে প্রকাশিত করল। আর সেই তালিকা এজেন্সি চূড়ান্ত না দিলে বিশ্বভারতী পেল কীভাবে। সুতরাং মেধা তালিকা আইনগত অবৈধ এবং পদ্ধতিগত ত্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে বলেই মনে করছেন পরীক্ষার্থীরা। সুতরাং নিয়োগের ক্ষেত্রেও অস্পষ্টতা এবং বিশেষ ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার জন্যই নিয়ম বহিভূতভাবে নিয়োগ পদ্ধতি বলেই অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্বভারতীর জনৈক্য এক আধিকারিক দাবি করেন, "প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী আমলে এজেন্সি মারফত নিয়োগে অস্বচ্ছতা দেখা যায়নি। বর্তমানে একটি দুষ্টুচক্র একের পর এক চাকরি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে এবং অপেক্ষাকৃত অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়ম না মেনে চাকুরির সুযোগ দিচ্ছেন। যা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠেতে শুরু করেছে।"
এ বিষয়ে প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী জানান, "ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি পরিচালিত কোনও নিয়োগে দুর্নীতির কোনও প্রশ্ন নেই। আর সারা ভারতবর্ষের মানুষ তা ওয়েবসাইটে দেখতে পান। এজেন্সিকে বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত মেধা তালিকা প্রকাশ এবং তা নিয়োগ পত্র প্রদান কখনও কাম্য নয়।" যদিও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্বভারতীর কর্মসচিব ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রককে লিখিত জবাবে জানায়, ১৭ এপ্রিল ২০২৩ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থীদের নিয়ম মেনেই নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ৫ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল থেকে অনুমোদনও নেওয়া হয়েছে। তবে চাকরিপ্রার্থীদের প্রশ্ন, প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরসহ চূড়ান্ত মেধা তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ না করেই কীভাবে সহকারি কর্মসচিব পদে যোগদান সম্ভব। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রককে স্পষ্ট জবাব দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেই অভিযোগ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা সত্ত্বেও সহকারি কর্মসচিব পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরমহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। চাকুরী প্রার্থীদের দাবি, উচ্চপর্যায় তদন্ত হওয়া উচিত। এবং সত্য প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন। নচেৎ ভবিষ্যতে প্রায় ৪০০ টি নন একাডেমিক পদে নিয়োগ হতে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে যা কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া করতে চলেছে বেসরকারি একটি এজেন্সিকে দিয়েই। ফলে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ আরোও জোরালো হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, "সমস্ত নিয়ম মেনে নিয়োগ হয়েছে। অভিযোগকারীদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।"
