সুমন করাতি, হুগলি: ফের এসআইআর (SIR in West Bengal)-এর গেরো। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হতেই এক আশ্চর্য ও উদ্বেগজনক ঘটনা সামনে এসেছে হুগলি জেলার আরামবাগে। সালেপুর দু'নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ডোঙ্গল এলাকার বাসিন্দা ৮২ বছরের প্রভাবতী ভৌমিককে সরকারি নথিতে 'মৃত' হিসেবে দেখানো হয়েছে। যদিও বাস্তবে তিনি দিব্যি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রভাবতী দেবী এত বছর ধরে নিয়মিত ভোট দিচ্ছেন। পড়তে অথবা লিখতে না জানলেও ভোট দেওয়ার অধিকার সম্পর্কে তিনি যথেষ্ট সচেতন বলেই দাবি করেছে পরিবার। তাঁরা জানিয়েছেন, ২০০২ সাল-সহ একাধিক নির্বাচনে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় ছিল। চলতি বছরেও পরিবারের তরফে SIR ফর্ম যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পরিবার।
কিন্তু খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্য করেন, প্রভাবতী দেবীর নাম মৃত ভোটারের তালিকায় রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবার স্থানীয় বিএলও-র কাছে গেলে তাঁদেরকে নতুন করে ফর্ম পূরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফর্ম জমা দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও সংশোধন বা নোটিস পাওয়া যায়নি বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় পরিবারের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাড়ির সকল সদস্যের নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও শুধু প্রভাবতী দেবীর নাম বাদ পড়ায় প্রশ্ন উঠছে, একজন জীবিত মানুষ কীভাবে সরকারি কাগজে মৃত হয়ে যেতে পারেন। এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী প্রভাবতী দেবীর বাড়িতে যান। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। স্বপন নন্দীর অভিযোগ, বিজেপির চাপে তড়িঘড়ি SIR প্রক্রিয়া চালানোর ফলেই এই ধরনের গুরুতর ভুল হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। এখন দেখার, কবে একজন জীবিত নাগরিক আবার সরকারি খাতায় জীবিত হিসেবে স্বীকৃতি পান।
