১ জুন থেকে রাজ্যে চালু হচ্ছে অন্নপূর্ণা যোজনা। ৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন মহিলারা। এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য সরকার। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বর্তমান উপভোক্তারাই এই প্রকল্পে মাসিক অনুদান পাবেন। তার আগেই উত্তর ২৪ পরগনায় শুরু হয়েছে তথ্য যাচাই ও কেওয়াইসি প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়াকে ঘিরেই গত কয়েকদিন ধরে ভাইরাল হয়েছে একটি ওয়েবলিঙ্ক— ayn24p.in। মোবাইল থেকে মোবাইলে ছড়িয়ে পড়া সেই লিঙ্ক ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এটি আদৌ সরকারি কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এখানেই কেওয়াইসি করতে হবে কিনা, ব্যক্তিগত তথ্য ভুয়ো ওয়েবসাইটে চল যাবে না তো? অনেকেই তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশাসনের তরফেই চালু করা হয়েছে এই পোর্টাল। জেলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদের তথ্য অন্নপূর্ণা যোজনার ডেটাবেসে স্থানান্তরের আগে কেওয়াইসি যাচাই করতেই এই উদ্যোগ। কী করতে হচ্ছে?
পোর্টালে ঢুকে প্রথমে ব্লক বা পুরসভা এবং সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত বা ওয়ার্ড নির্বাচন করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের শেষ চারটি সংখ্যা দিলেই উঠে আসছে আবেদনকারীর নাম। তারপর ‘আপডেট’ অপশনে গিয়ে আধার ও এপিক নম্বর দেওয়ার পাশাপাশি আপলোড করতে হচ্ছে আধার ও ভোটার কার্ডের ছবি। সব তথ্য যাচাইয়ের পর ‘সাবমিট ভেরিফিকেশন’-এ ক্লিক করলেই সম্পূর্ণ হচ্ছে প্রক্রিয়া।
তবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের মূল সরকারি ওয়েবসাইটে প্রথমদিকে এই লিঙ্ক না থাকায় বিভ্রান্তি বাড়ে। ছড়িয়ে পড়ে ‘ভুয়ো সাইট’-এর জল্পনাও। পরে অবশ্য সরকারি ওয়েবসাইটেও যুক্ত করা হয় ওই লিঙ্ক। জেলাশাসক শিল্পা গৌরিসারিয়া বলেন, “উপভোক্তার সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। অফলাইনে পুরো কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই দ্রুত তথ্য সংগ্রহ ও কেওয়াইসি যাচাইয়ের জন্য আলাদা ওয়েবলিঙ্ক তৈরি করা হয়েছে।” জেলা প্রশাসন সূত্রের দাবি, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১২ লক্ষ উপভোক্তা এই পোর্টালে তথ্য আপডেট করেছেন। আপাতত এই ব্যবস্থা শুধুমাত্র উত্তর ২৪ পরগনার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদের জন্যই চালু রয়েছে।
