দেবব্রত মণ্ডল, বারুইপুর: বছরের প্রথম ছুটির সকালেই রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভাঙড়। ফের দ্বন্দ্বে জড়াল শওকত ও আরাবুল বাহিনী। রবিবার সকালে তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতা আরাবুল ইসলামের ছেলে হাকিমুলের গাড়িতে হামলা চলে, তাঁকে ঘিরে ওঠে 'গদ্দার' স্লোগান। অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার অনুগামীরা পরিকল্পনামাফিক হাকিমুলকে আক্রমণ করেছে। হাকিমুল ইসলাম দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলার পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ। তাঁর উপর এহেন হামলার ঘটনায় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। এনিয়ে বিধায়ক শওকত মোল্লার অবশ্য দাবি, ''দলে গদ্দারদের জায়গা নেই, জনতা ওদের চায় না।''
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতের দিকে। ওইদিন বিকেলে ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ভাঙড়ের তৃণমূল নেতাদের একাংশ। দলে ছিলেন হাকিমুল ইসলাম, কাইজার আহমেদ, ওদুদ মোল্লারা। অভিযোগ, সেখান থেকে ফেরার পর রাতেই পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ওদুদ মোল্লার কাঁঠালিয়ার বাড়িতে চড়াও হন শওকত অনুগামীরা। তাঁকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। এই খবর পেয়ে সন্ত্রস্ত ওদুদের পাশে দাঁড়াতে রবিবার সকালে তাঁর বাড়িতে যান হাকিমুল, কাইজাররা। সেখান থেকে বেরনোর সময়ই বিক্ষোভের মুখে পড়েন হাকিমুল।
অভিযোগ, শওকত অনুগামীরা তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে হামলা চালান। হাকিমুলকে ঘিরে 'গদ্দার' স্লোগান। খবর পেয়ে উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দিতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের খানিক ধস্তাধস্তিও হয়। শেষে অবশ্য পুলিশ হাকিমুলকে নিরাপদে বের করে নিয়ে যান। এনিয়ে হাকিমুল সরাসরি বিধায়ক শওকত মোল্লার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, ''শওকতের দলবল রাতে ওদুদের বাড়ি গিয়ে খুনের হুমকি দিয়েছিল। আজ আমার গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। ওদের দাপটে এই এলাকা অস্থির হয়ে উঠছে। সকলে আতঙ্কিত। পুলিশ ব্যবস্থা নিক।''
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে শওকতের পালটা দাবি, ''যারা নিজেরা ঝামেলা করে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে, তারা গদ্দার। দলে গদ্দারদের কোনও স্থান নেই।'' অশান্তি রুখতে এলাকায় এখনও পুলিশ বাহিনী মোতায়েন। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে থেকে ভাঙড়ের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত এলাকাবাসী।
