শংকর রায়, রায়গঞ্জ: স্কুল ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক তথা বিজেপির বহিস্কৃত নেতাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে এবার আন্দোলনে খোদ গেরুয়া দলেরই নেতৃত্ব। শুধু তাই নয়, অভিযুক্ত জেলা বিজেপির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক শুভদীপ চক্রবর্তীকে পুলিশ গ্রেপ্তার না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে দলের তরফে। এই মর্মে আজ রবিবার ইসলামপুর থানায় ডেপুটেশনও দেওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, "অভিযুক্ত কোন দলের নেতা, সেটা কথা নয়। কিশোরী নির্যাতনে অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি আমরাই প্রথম জানাই।''
অন্যদিকে প্রাইভেট টিউশন নিতে গিয়ে কিশোরী পড়ুয়ার যৌন হেনস্থার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই অভিযুক্ত নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরা। এমনকী অভিযুক্তের বাড়ির ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ। তবে খবর পেয়ে সময়মত পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছনোয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে অভিযুক্তের বাড়িতে ঢুকে পরিবারের বাকি সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। যা নিয়ে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তেজনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।
বস্তুত ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ এর ১৫ ডিসেম্বর! ঘটনার আঠারো দিনের মাথায় শুক্রবার কিশোরীর পরিবারের তরফে অভিযুক্ত শিক্ষক তথা ওই নেতার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় যৌন হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করা হয়। যদিও অভিযোগ দায়ের অনেক আগেই নিজের বাড়ি থেকে ফেরার অভিযুক্ত বিজেপির যুব মোর্চার প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক তথা প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক শুভদীপ চক্রবর্তী। শহরের একটি প্রাথমিক স্কুলের সহ শিক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। এ ব্যাপারে এদিন ইসলামপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডান্ডুপ শেরপা বলেন, "দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পকসো মামলায় অভিযুক্তেকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"
অন্যদিকে ঘটনায় বিজেপির নাম জড়াতেই আসরে নামে স্থানীয় জেলা নেতৃত্ব। বিজেপির জেলার সহ সভাপতি সুরজিৎ সেন বলেন," অভিযুক্তের সঙ্গে দলের কোন সম্পর্ক নেই। ঘটনার অভিযোগের পরেই শুভদীপ চক্রবর্তীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অথচ তৃণমূল অভিযোগ করছে,অভিযুক্তকে পালাতে সাহায্য করেছে দল, এটা ঠিক নয়।" শুধু তাই নয়, বিজেপি নেতার দাবি, ''বিগত কয়েক মাস ধরে দলের যুবমোর্চা শাখার কোন কমিটি নেই। ফলে নতুন কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত কেউ কোন পদাধিকারিক নন।"
অন্যদিকে বিজেপির সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাঁর স্কুলের এক শিক্ষিকাকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু ঘটনাটি এতদিন কার্যত ধাপাচাপা পড়েছিল। তবে গত ১৫ ডিসেম্বর টিউশন পড়ানোর নামে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে এলাকারই অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় বছর চল্লিশ বয়সের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুক্রবার সামনে আসতেই চাঞ্চল্য তীব্র আকার নেয়।
