রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তির জন্য নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন! দুর্গাপুরের সভায় বললেন বিজেপির 'নবীন' নেতা। বুধবার দুর্গাপুরে বর্ধমান বিভাগের কার্যকর্তা সম্মেলনে বলতে গিয়ে ফের বাঙালি অস্মিতাকে ভূলুন্ঠিত করলেন বিজেপির নবনিযুক্ত সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। নীতীন বলেন, "দেশ-সহ এই ভূমিকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিক্ষার জন্যে নতুন পদ্ধতি দিয়েছেন। এর জন্যে তিনি শান্তির নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।" যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। সামাজিক মাধ্যমে সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে হাসির রোল। এই ভাষণের সমালোচনায় সরব হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস-সহ সিপিএম ও কংগ্রেসও।
বিজেপি বাংলা ও বাংলার মনীষীদের চেনে না। বারবার এই অভিযোগ তোলে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলার মনীষীদের নিয়ে বিজেপি নেতাদের বিতর্কিত মন্তব্য করতেও শোনা গিয়েছে। স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে 'দাদা' বলে সম্বোধন করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কবিগুরুকে রবীন্দ্রনাথ স্যানাল বলেছিলেন। মধ্যপ্রদেশের এক বিজেপি নেতা তো রাজা রামমোহন রায়কে ইংরেজদের দালাল বলে অপমান করেছিলেন। সেই তালিকায় এবার জুড়ল বিজেপির নবনিযুক্ত সর্বভারতীয় সভাপতির নাম। ভোটের আগে বিজেপির কার্যকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে তিনি মামুলি 'নিদান' দিতে গিয়ে বলে বসেন, "কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিক্ষার জন্যে নতুন পদ্ধতি দিয়েছেন। এর জন্যে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন।" বাংলার মীনীষেদের ভুল নাম উচ্চারণ, বিকৃত নামে ডাকা, যেন বিজেপির রোজকার রুটিন হয়ে গিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে তৃণমূল।
নীতীন নবীনের এই বক্তব্যের পর বিজেপির অন্দরেই শুরু হয়েছে চর্চা। বঙ্গের বিধানসভা ভোটের আগে এই সম্মেলনে ৪ টি লোকসভা ও ২৮টি বিধানসভার কার্যকর্তাদের সামনে কোনও দিশা তিনি দেখাতে পারলেন না নবীন। প্রায় পঁয়ত্রিশ মিনিটের ভাষণে ভোটের আগে বর্ধমান বিভাগের কার্যকর্তাদের বলেন, "বুথ জিততে হবে। শক্তি কেন্দ্র মজবুত করতে হবে।" কীভাবে ভোটে লড়তে হবে তার রূপরেখা ঠিক করার বদলে, নতুন সভাপতি উলটে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসায় ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের একাংশ।
