আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হবে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। সিঙ্গুরের সভামঞ্চ থেকে সেই কথা ঘোষণা করলেন তিনি। বলেন, "বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করতে গিয়ে কিছু বন্ধু মারা গিয়েছেন। আমি ববি, অরূপকে পাঠিয়েছিলাম। ওদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। আমি পুলিশকে বলেছি পরিবারের সদস্যদেরকে সিভিকের চাকরি দেওয়ার জন্য।"
গতকাল আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে (Anandpur Fire) মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করে রাজ্য সরকার। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম একথা জানান। দেহ বা দেহাংশের শনাক্তকরণ হলেই পরিবারের হাতে চেক তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুরমন্ত্রী। পাশাপাশি আজ, বুধবার ডিএনও পরীক্ষার জন্য আদালতের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
তবে এই প্রক্রিয়া কিছুটা সময় সাপেক্ষ। কিন্তু কেন? ডিএনএ পরীক্ষা করতে গেলে নিয়ম মেনে আদালতের কাছে অনুমতি নিতে হয়। সেই অনুমতি মেলার পর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আগামিকাল পুলিশ সেই অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবে। অন্যদিকে এই অগ্নিকাণ্ডে দু’টি মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
রবিবার ভোর রাতে প্রায় ৩টে নাগাদ আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান এলাকার মানুষ। তাঁরাই দমকল ও পুলিশে খবর দেন। দমকলের ১২ ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়। পরে আরও ৪টি ইঞ্জিন আসে। অবশেষে দেড় দিন পর দমকলের ১৬টি ইঞ্জিনের তৎপরতায় আজ, মঙ্গলবার আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। এখনও পর্যন্ত সরকারি মতে ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা গিয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। মঙ্গলবার নাজিরাবাদের ওই দুই পোড়া গুদাম থেকে ৮ জনের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
