রাজ্য সরকারের নয়া প্রকল্প যুবসাথী চালুর প্রথম দিনই অশান্তির সাক্ষী রইল উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া। বেকার ভাতা পেতে এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্তিকরণের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আবেদনকারীদের মধ্যে সামান্য ঝগড়া থেকে আচমকা হাতাহাতির চেহারা নিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে দাঁড়ায় যে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেক তরুণ-তরুণীই ভয়ে লাইন থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফিরে যান। মারধরের জেরে জখম হন দু'জন। তবে খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে তড়িঘড়ি পুলিশবাহিনী পৌঁছয়। মারামারির ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত যুবকদের দ্রুত লাইনে থেকে হটিয়ে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তাতে অশান্তি আরও বেড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে থমকে যায় ফর্ম তোলার কাজ। তবে শেষমেশ পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
রবিবার দুপুরে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় বিডিও কার্যালয় চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। মারামারির জেরে প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অবশেষে ব্লক প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতায় ফের নাম নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু হলেও লাইনে ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। যদিও গোলমালের ঘটনার সঙ্গে নাম নথিভুক্তকরণের কোনও সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন চোপড়ার বিডিও সৌরভ মাঝি।
যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনে দীর্ঘ লাইন। নিজস্ব ছবি
পুলিশ সূত্রে খবর, লাইনে দুই যুবকের মধ্যে প্রাথমিকভাবে কথা কাটাকাটি থেকে ঝামেলা, হাতাহাতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাঁদের লাইন থেকে বের করে দেওয়া হয়। এটা দু'জনের ব্যক্তিগত ব্যাপার। ইসলামপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডেন্ডুপ শেরপা বলেন, "মারামারির ঘটনা সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ কেউ লিখিতভাবে জানাননি। সামান্য গোলমাল হয়েছিল। পুলিশ পৌঁছলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।"
এদিন সকাল থেকেই যুবসাথী প্রকল্পে নাম নথিভুক্তের জন্য তরুণ-তরুণীদের লাইনে ভিড় উপচে পড়েছিল উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া বিডিও কার্যালয় চত্বরে। কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রথম থেকেই ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল যথেষ্ট পুলিশকর্মী। ফলে নাম নথিভুক্তকরণের কাজ চলছিল ভালোভাবেই। কিন্তু সাড়ে তিন ঘন্টা গড়াতে না গড়াইতে লাইনে দাঁড়িয়ে দুই যুবকের মধ্যে বচসা শুরু হয়। তাতেই এত বড় বিশৃঙ্খলা তৈরি হল বলে জানিয়েছেন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জিয়ারুল রহমান।
মালদহের চাঁচলের যুবসাথী প্রকল্পের ফর্ম তোলা ঘিরে বিশৃঙ্খলা। নিজস্ব ছবি
অন্যদিকে, মালদহের চাঁচল বিধানসভা এলাকাতেও যুবসাথী ক্যাম্পে ফর্ম বিলি করাকে কেন্দ্র করে ধস্তাধস্তি, উত্তেজনা। ফর্ম নেওয়ার জন্য মহিলা ও যুবকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি ঘিরেই এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। বারবার মাইকিং করা হলেও ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনকে।
