রাত নামলেই বদলে যাচ্ছে গোটা এলাকার পরিস্থিতি! আতঙ্কে দরজায় খিল দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। মানুষজনের দাবি, রাত হলেই এলাকায় অচেনা এক ব্যক্তির উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, দরজায় দরজায় টোকা দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি। যা নিয়ে রীতিমতো শুরু হয়েছে তরজাও। আর এহেন ঘটনা সামনে আসতেই একেবারে সতর্ক বাঁকুড়ার পুলিশ প্রশাসন। পুরো বিষয়টিকে গুজব বলেই দাবি। আর এরপরেই পুলিশের তরফে শুরু হয়েছে সচেতনতা প্রচার। এমনকী গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও কড়া বার্তা পুলিশের।
ঘটনার সূত্রপাত ঝাড়গ্রাম থেকে। জানা যায়, সেখানেই প্রথম নাকি এমন ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়ে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলেও। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গভীর রাতে এক অচেনা ব্যক্তি পাড়ায় ঘোরাঘুরি করে। ভরত হেমব্রম বলেন, “হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ে। বাইরে বেরোতে সাহস হয়নি। লোকটা জিজ্ঞেস করছিল, ভেতরে কেউ আছে কি না।” শুধু ভরতই নন, স্থানীয় এক বাসিন্দা গণেশ টুকরার কথায়, “ওই ব্যক্তি বাড়িতে মুরগি আছে কি না, সে রকম প্রশ্নও করে। এত রাতে এমন প্রশ্নে সন্দেহ তো হবেই।” তারপর? কেউ নিশ্চিত নন। কেউ বলছেন, লোকটি অন্ধকারে মিলিয়ে যায়। কেউ দাবি করছেন, পাশের পাড়াতেও নাকি একইভাবে টোকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাতের অন্ধকার কে এমন টোকা দিচ্ছে তা জানা যায়নি।
তবে এক রাতের ঘটনাই যেন আগুনে ঘি ঢেলেছে! স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে মুখে ঘুরতে শুরু করেছে নানা বার্তা। কোথাও বলা হচ্ছে শিশুচোর চক্র সক্রিয়, কোথাও অঙ্গ পাচারের আশঙ্কা, আবার কেউ দাবি করছেন, বাড়ি চিহ্নিত করে চুরির ছক কষা হচ্ছে। আর এহেন দাবি একেবারে ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। বারিকুল থানা এলাকা জঙ্গলঘেরা, কংসাবতী নদীর ধারে ছড়ানো ছোট ছোট গ্রাম। সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়! এমন পরিবেশে অচেনা কারও পায়ের শব্দই যথেষ্ট সন্দেহের জন্ম দিতে। এই অবস্থায় রহস্যময় এক ব্যক্তির আনাগোনার খবর ঘিরে রীতিমতো আতঙ্কে এলাকার মানুষজন। সন্ধ্যা নামলেই একেবারে ফাঁকা রাস্তাঘাট। যদিও এর মধ্যেই জঙ্গলমহল এলাকার বহু গ্রামে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন বাসিন্দারা। বাইরের কাউকে দেখলেই জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কিন্তু এহেন ঘটনায় কি বলছে পুলিশ প্রশাসন?
এসডিপিও অভিষেক যাদব বলেন, “গত বৃহস্পতিবার রাতে একজন অচেনা ব্যক্তিকে ঘিরে কিছু উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তার পর থেকেই মাইকিং করে সচেতনতা প্রচার চলছে। বারিকুল থানা এলাকায় কোনও অপহরণ বা অপরাধের ঘটনা ঘটেনি। গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
